Home Blog Page 53

ইন্ডাকশন মোটর কি, প্রকারভেদ,সুবিধা ও অসুবিধা এবং ইন্ডাকশন মোটর টেস্ট

মোটরের আবিষ্কার পরিবর্তন করে দিয়েছে আমাদের জীবন-জীবিকা। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হচ্ছে ইন্ডাকশন মোটর।

দৈনন্দিন অনেক কাজেই আমরা মোটর ব্যবহার করি। আবিষ্কারের পর থেকে হয়েছে এর কয়েক স্তরের পরিবর্তন। বর্তমানে অনেক প্রকারের মোটর পাওয়া যায়। বিভিন্ন পরিমিতির উপর ভিত্তি করে মোটরের এই সব শ্রেণীবিভাগ করা হয়।

Photo credit: elprocus.com

উপরের সকল প্রকার মোটরের মধ্যে ইন্ডাকশন মোটর অন্যতম। দিন দিন এর ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে এর চাহিদা বেড়েই চলেছে। এই ব্লগে ইন্ডাকশন মোটর কি, এর প্রকারভেদ, ইন্ডাকশন মোটর টেস্ট এবং এর সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

ইন্ডাকশন মোটর কি?

ইন্ডাকশন মোটর

ইন্ডাকশন মোটর (অ্যাসিঙ্ক্রোনাস মোটর নামেও পরিচিত) একটি সাধারণ এসি (AC) বৈদ্যুতিক মোটর। ইন্ডাকশন মোটরে, রুটরের বৈদ্যুতিক প্রবাহ তড়িৎচৌম্বকীয় ইন্ডাকশনের মাধ্যমে স্টেটরের ঘুর্ণায়মান চৌম্বকীয় ক্ষেত্র হতে টর্ক তৈরি করে। ইন্ডাকশন মোটরগুলো ‘অ্যাসিঙ্ক্রোনাস মোটর’ হিসাবে পরিচিত কারণ এগুলোর গতি ‘সিঙ্ক্রোনাস মোটর’ এর গতির চেয়ে কম।

ইন্ডাকশন মোটরের প্রকারভেদঃ

সিঙ্গেল ফেজ এবং 3 ফেজের উপর ভিত্তি করে ইন্ডাকশন মোটর কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে।

Single Phase Induction motor:

সিঙ্গেল ফেজ ইন্ডাকশন মোটর মূলত 4 প্রকার।

যথা-

1. Split Phase Induction Motor

2. Capacitor Start Induction Motor

3. Capacitor Star & Capacitor Run Induction Motor

4. Shaded Pole Induction Motor

Three Phase Induction Motor:

3 ফেজ ইন্ডাকশন মোটর মূলত ২ প্রকার।

যথা-

1. Squirrel Cage Induction Motor

2. Slip Ring Induction Motor

ইন্ডাকশন মোটর টেস্টঃ

দিন দিন শক্তির ব্যয় বাড়ছে, ফলে শক্তির চাহিদাও ক্রমশ বাড়ছে। তাই এখন প্রয়োজনীয় বড় বড় মোটরগুলোর সর্বাধিক যত্ন নেওয়া উচিত। ইন্ডাকশন মোটরের অবস্থা পরীক্ষা করতে এবং মোটরের ত্রুটির প্রাথমিক ধারণা পাওয়ার জন্য মোটরগুলোর টেস্ট করা প্রয়োজন হয়। বর্তমানে অনেক পদ্ধতি রয়েছে মোটর টেস্ট করার, যেগুলো মোটরের কর্মক্ষমতা যাচাই করে। ভোল্টেজ, কারেন্ট, তাপমাত্রা এবং কম্পনের মতো কিছু পরামিতিগুলো পর্যবেক্ষণ করে মোটরের ত্রুটি সনাক্ত করা যায় এবং এই ত্রুটিগুলোর সংশোধন করে মোটরের সামগ্রিক দক্ষতা উন্নত করা যায়। এর ফলে শক্তির ব্যবহার এবং পরিচালনা ব্যয় কমে আসবে।

মৌলিক পরিমিতিগুলো টেস্টঃ

Current:

যেহেতু সকল ফেজে লাইন কারেন্ট সমান নয় তাই ফেজ কারেন্টের গাণিতিক গড় মোটরের কার্যকারিতা মূল্যায়নের জন্য ব্যবহার করা উচিত।

Voltage:

পরীক্ষা করার সময় মোটর টার্মিনালগুলোতে ভোল্টেজ পরিমাপ করা হয় এবং এটি প্রায় ভারসাম্যযুক্ত হওয়া উচিত। তাছাড়া ফেজ ভোল্টেজের গড় ব্যবহার করে মোটরের পারফরম্যান্স হিসাব করা যেতে পারে।

Power:

3 ফেজ মোটরের ইনপুট পাওয়ার একটি একক ওয়াট মিটার দ্বারা গণনা করা যেতে পারে। কারণ যেহেতু তারা ‘টু ওয়াট মিটার’ পদ্ধতিতে সংযুক্ত থাকে।

Resistance:

মোটরের বডি এবং মেশিনের টার্মিনালের মধ্যের গ্রাউন্ড রেজিস্ট্যান্স পরীক্ষা করা হয়।

ইন্ডাকশন মোটর

ইন্ডাকশন মোটরের বিভিন্ন পার্টস গুলো টেস্ট করতে বিভিন্ন পরিমিতির পরীক্ষা করা হয়। সকল পরীক্ষাকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা যায়।

প্রারম্বিক টেস্ট (Preliminary Test):

এই টেস্টটি করা হয় মূলত ইন্ডাকশন মোটরের বৈদ্যুতিক এবং যান্ত্রিক ত্রুটিগুলো বের করতে। টেস্টগুলো হলোঃ

1. Broken rotor bars check

2. High resistance joints check

3. Cracked end rings check

4. No-load running current test

5. High potential test

6. Air-gap measurement

7. Balancing of current

8. Temperature rise in bearing

9. Voltages in shaft

10. Direction of rotation

11. Level of noise

12. Strength of vibration

13. Air gap eccentricity

পারফরমেন্স টেস্ট (Performance Test):

ইন্ডাকশন মোটরের পারফরমেন্স চেক করার জন্য এই টেস্টগুলো করা হয়। একটি ইন্ডাকশন মোটরের কর্মদক্ষতা, কাজের গতি ইত্যাদি টেস্টগুলো পারফরমেন্স টেস্টের অন্তর্ভুক্ত। মোটরের পারফরমেন্স যাচাই করতে যে সকল টেস্ট করা হয়, সেগুলো হলোঃ

1. No load test

2. Locked rotor test

3. Breakdown torque load performance test

4. Temperature test

5. Stray load loss test

6. Determination of efficiency test

ইন্ডাকশন মোটরের সুবিধাঃ

1. ইন্ডাকশন মোটরের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাটি হল এটি খুব সহজেই নির্মাণ করা যায়। ইন্ডাকশন মোটরের স্টেটরটির (Stator) নির্মাণ সিঙ্ক্রোনাস মোটরের (Synchronous motor) মতোই প্রায়। তবে সিঙ্ক্রোনাস জেনারেটরের ক্ষেত্রে রুটোরে (rotor) ডিসি সাপ্লাই দেওয়ার জন্য একটি স্লিপ রিং প্রয়োজন হয়। Squirrel cage Induction motor এর জন্য স্লিপ রিং আবশ্যক নয় কারণ উইন্ডিংগুলি স্থায়ীভাবে সর্ট সার্কিট করা থাকে। ডিসি মোটরের সাথে তুলনা করা হলে, ইন্ডাকশন মোটরে কোন ব্রাশ নেই এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ ও কম। এটি একটি সাধারণ নির্মাণ প্রক্রিয়ায় নির্মাণ করা যায়।

2. ইন্ডাকশন মোটরের কাজ গতি পরিবেশের উপর নির্ভরশীল নয়। এটি কারণ ইন্ডাকশন মোটর অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন এবং যান্ত্রিকভাবে শক্তিশালী।

3. Squirrel cage induction motor এর কোনো ব্রাশ, স্লিপ রিং এবং কম্যুটেটর থাকে না। এই কারণে ইন্ডাকশন মোটরের দাম বেশ কম। তবে রুটরকে ঘুরিয়ে বাহ্যিক রেজিস্ট্যান্স দিতে কিছু সাধারণ ইন্ডাকশন মোটরে স্লিপ রিংগুলো ব্যবহৃত হয়।

4. ব্রাশের অনুপস্থিতির কারণে মোটরে কোনও স্পার্কস তৈরি হয় না। ফলে এটি বিপজ্জনক পরিস্থিতিতেও ব্যবহার করা যায়।

5. একটি 3 ফেজ ইন্ডাকশন মোটরের উচ্চ প্রারম্ভিক টর্ক, উচ্চ গতি নিয়ন্ত্রণ এবং মানসম্মত ওভারলোড ক্ষমতা রয়েছে।

6. ইন্ডাকশন মোটর একটি অত্যন্ত দক্ষ মেশিন যার কর্মদক্ষতা 85 থেকে 97 শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ইন্ডাকশন মোটরের অসুবিধাঃ

1. একটি সিঙ্গেল ফেজ ইন্ডাকশন মোটরের 3 ফেজ ইন্ডাকশন মোটরের মতো কোন নিজস্ব টর্ক নেই। তাই একটি সিঙ্গেল ফেজ ইন্ডাকশন মোটর চালু করতে বাইরের সহায়তা প্রয়োজন হয়।

2. অল্প লোডের সময়, মোটরের পাওয়ার ফ্যাক্টর খুব নিচে নেমে যায়। এটি হওয়ার কারণ হলো মোটরটি চালু করার সময়, মোটরের স্টেটর এবং রুটরের মধ্যে বায়ু ফাঁকের জন্য যে বাধা সৃষ্টি হয় সেটি অতিক্রম করতে একটি বড় চৌম্বকীয় বিদ্যুৎ প্রবাহের দরকার হয়। এছাড়াও, ইন্ডাকশন মোটর সরবরাহকৃত বিদ্যুৎ প্রবাহের খুব কম অংশ নিয়ে কাজ করে। লোড কারেন্ট এবং ম্যাগনেটাইজিং কারেন্টের ভেক্টর সমষ্টি ভোল্টেজকে প্রায় 75-80 ডিগ্রিতে লেগ করে, ফলে পাওয়ার ফ্যাক্টর কমে যায়। উচ্চ চৌম্বকীয় বিদ্যুৎপ্রবাহের কারণে মোটরের তামার ক্ষয়-ক্ষতি বেড়ে যায়। এর ফলে মোটরের কার্যকারিতাও হ্রাস পায়।

3. ইন্ডাকশন মোটরের গতি নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। 3 ফেজ ইন্ডাকশন মোটর একটি ধ্রুবক গতির মোটর এবং সমগ্র লোডিং সময়ে ইন্ডাকশন মোটরের গতির পরিবর্তন খুব কম হয়।

4. ইন্ডাকশন মোটরগুলোতে উচ্চ গতির বিদ্যুৎ প্রবাহ ইনপুট করত হয়, যা চৌম্বকীয় ইনরাস বিদ্যুৎ (Magnetising inrush currents) প্রবাহ হিসাবে পরিচিত। এর ফলে মোটর চালু করার সময় ভোল্টেজ হ্রাস হয়।

5. নিম্ন প্রারম্বিক টর্কের কারণে, যে সকল ক্ষেত্রে উচ্চ প্রারম্বিক টর্কের প্রয়োজন হয় সেই সব ক্ষেত্রে এই মোটরগুলো ব্যবহার করা যায় না।

আপনার কাজে লাগতে পারে এমন আরো আর্টিকেলঃ


আজ এ পর্যন্তই ভাল লাগলে অবশ্যই ফেসবুকে শেয়ার করে রাখবেন। ধন্যবাদ।

কোন কারেন্ট বেশি বিপজ্জনক? এসি না ডিসি?

0
বৈদ্যুতিক শক

কখনও কি বৈদ্যুতিক শক খেয়েছেন? অনেকেই মনে করেন যে বৈদ্যুতিক শকের দিক থেকে ডিসি কারেন্ট এসি কারেন্টের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং বিপজ্জনক। কোনটি আরও বিপজ্জনক তা খুঁজে বের করতে আসুন এসি কারেন্ট এবং ডিসি কারেন্টের বেসিকগুলি দেখে নেই।

এসি কারেন্ট (AC Current)

এসি কারেন্ট

অলটারনেটিং কারেন্ট বা AC Current সাইন ওয়েভের সাহায্যে (উপরের ছবিতে) দেখানো হয়েছে। সাইন ওয়েভ থেকে আমরা জানি এটি বার বার উপরের প্যাটার্ন মেনে চলে। অর্থাৎ সময়ের সাথে প্রতিনিয়ত বাড়ে কমে। নির্দিষ্ট পর্যায়কাল পর পর এটি বিপরীত ধর্ম প্রদর্শন করে অর্থাৎ একবার পজিটিভ হয় আরেকবার নেগেটিভ হয়। আমরা আমাদের পারিবারিক সরঞ্জাম যেমন লাইট, ফ্যান ইত্যাদিতে সাধারণত এসি কারেন্ট ব্যবহার করে থাকি।

ডিসি কারেন্ট (DC)

ডিসি কারেন্ট

ডিরেক্ট কারেন্ট বা DC Current সবসময় একইদিকে প্রবাহিত হয় এবং সময়ের সাথে সাথে কারেন্টের মান পরিবর্তন হয়না। এটি ছোট ছোট বৈদ্যুতিক সার্কিট, ব্যাটারি ইত্যাদিতে দেখা যায়।

সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে শুধুমাত্র কারেন্টের ধরনের উপর নির্ভর করে বৈদ্যুতিক শকের তীব্রতা পরিমাপ করতে পারবেন না। শকের মান কেমন হবে তার জন্য আরো কিছু ফ্যাক্টর কাজ করে। চলুন এবার সেগুলো জেনে ফেলিঃ

কারেন্টের পরিমান

আপনার শকটি কেমন হবে তার অনেকটাই নির্ভর করে কারেন্তের পরিমানের উপর। অর্থাৎ ঠিক কি পরিমান কারেন্ট আপনার শরীরের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে তার উপর। মোটামুটি ১৫ থেকে ২০ মিলি এম্পিয়ারের অল্টারনেটিং কারেন্টের বৈদ্যুতিক শক আপনার জন্য ব্যথাদায়ক হতে পারে। তবে ১০০ মিলি এম্পিয়ারের একটি AC Current শক কিন্তু আপনার মৃত্যু ডেকে আনতে পারে।

কারেন্টের পথ

কারেন্টের গতিপথের উপরও আপনার শকের ভয়াবহতা অনেকাংশে নির্ভর করে। কারেন্ট যদি ডানহাত দিয়ে প্রবেশ করে ডান পা দিয়ে মাটিতে যায় সেক্ষেত্রে শকটি আপনার জন্য বেশি মারাত্মক হবে। তবে যদি কোন কারনে কারেন্ট ডান হাত দিয়ে ঢুকে হার্ট হয়ে বাম হাত দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় তবে আপনার ভেন্ট্রিকুলার ফাইব্রিলেশন হতে পারে যা আরও বেশি মারাত্মক।

কারেন্ট প্রবাহের সময়কাল

সামান্য পরিমাণ কারেন্টও যদি দীর্ঘ সময়ের জন্য শরীর দিয়ে প্রবাহিত হয় তাহলে আপনি বৈদ্যুতিক শক অনুভর করতে পারেন। কারণ ০.৩ মিলিঅ্যাম্পিয়ার এর মত বিদ্যুৎ প্রবাহও আপনার শরীরে অস্বস্থি তৈরি করে ফেলতে পারে যদি সেটা বেশিক্ষন ধরে প্রবাহিত হয়।

শরীরের রোধ

শরীরে রোধ

সাধারণত শুষ্ক শরীরের তুলনায় ভেজা শরীরে বৈদ্যুতিক শক বেশি অনুভুত হয়। যেহেতু মানুষের শরীরের বৈদ্যুতিক রোধ এর কোনো নির্দিস্ট মান নেই। এটি অনেকগুলো বিষয়ের উপর নির্ভর করে। তাই একেকজনের দেহে শকের পরিমাণও একেক রকম হবে। মানবদেহে এই রোধের পরিসর ৫০০ ওহম থেকে ১০০,০০০ ওহম পর্যন্ত হতে পারে।

এবার আসি মূল কথায়। মানুষ কেন শক খায়?

মানুষ কেন বৈদ্যুতিক শক খায়?

এটি জানতে বেশ আশ্চর্য লাগবে যে, কারেন্ট ত্বকের মাধ্যমে শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে। ত্বকের এপিডার্মিসের বাইরেরতম স্তরটি কেরাটিন নামক একটি প্রোটিন উপাদান দ্বারা গঠিত।

কেরাতিন এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ সহজে যেতে পারেনা কারণ কেরাতিন এর জন্য শরীরে অত্যধিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। এপিডার্মিস স্তরের পরে থাকে আমাদের ঘাম গ্রন্থি এবং তারপরে রক্তনালীগুলি থাকে। এই ঘাম গ্রন্থি এবং রক্তনালীগুলি বিভিন্ন আয়নের সমন্বয়ে গঠিত, যা একটি ভাল বিদ্যুৎ পরিবাহক। যার ফলে সহজেই বিদ্যুৎ চলাচল করতে পারে।

এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কারেন্ট কীভাবে শরীরের মধ্যে ঢূকে এবং চলাচল করে।

উপরের প্রশ্নের উত্তর থেকে আমরা জানি, ত্বকের এপিডার্মিসের বহিরাগত স্তরটি একটি ডাইলেট্রিক হিসাবে কাজ করে। অপরদিকে অভ্যন্তরীণ ঘাম গ্রন্থি এবং টিস্যুগুলি ক্যাপাসিটরের প্লেট হিসেবে কাজ করে। এই ক্যাপাসিটিভ-এফেক্টের কারণে কারেন্ট মানুষের শরীরের মধ্য দিয়ে যায়। দ্রুত পরিবর্তনশীল ভোল্টেজ শরীরের মধ্য দিয়ে আরও বেশি কারেন্ট প্রবাহের সু্যোগ দেয়।

এসি এবং ডিসির মধ্যে কোনটি বেশি বিপজ্জনক?

এখন আমি AC Current এবং DC Current উভয়ের পক্ষে কিছু যুক্তি উপস্থাপন করব যেগুলো মানুষ (পুরুষ এবং মহিলা সহ) এবং শিল্প পেশাদারদের উপর চালিত পরীক্ষাগুলির উপর ভিত্তি করে লেখা। যাদের উভয় প্রকার কারেন্ট সম্পর্কে ভাল অভিজ্ঞতা রয়েছে।

ডিসি কারেন্টের পক্ষে যুক্তি

ডিসি কারেন্টের সাহায্যে বৈদ্যুতিক শক পেয়েছেন এমন ভুক্তভোগীরা বলেছেন যে ডিসি কারেন্ট অবিচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত হওয়ায় অর্থাৎ সময়ের সাথে কারেন্ট এবং ভোল্টেজের মান পরিবর্তন না হওয়ায় তারা তাদের হাত পিছনে টানতে পারেন না। এই প্রভাবটি ডিসি কারেন্ট সরবরাহ করা বৈদ্যুতিক ডোর বেলের অনুরূপ। সুতরাং, এটি সহজেই বলা যায় DC Current যথেষ্ট শক্তিশালী এবং বিপজ্জনক।

অন্যদিকে, এসি কারেন্টের ক্ষেত্রে, বৈদ্যুতিক শক সম্মুখীন ব্যক্তি কারেন্টটি শূন্যের দিকে যাওয়ার সাথে সাথে তাদের হাত পিছনে টানতে পারে। সুতরাং, এটি বিশ্বাস করা হয় যে এসি কারেন্ট শক ডিসি কারেন্টের চেয়ে কম বিপজ্জনক।

এসি কারেন্টের পক্ষে যুক্তি

এসি কারেন্টের সাহায্যে বৈদ্যুতিক শক পেয়েছেন এমন ভুক্তভোগীদের মূল চিন্তাই হল জীবন বাঁচানো এবং এটা থেকে মুক্তি পাওয়া এবং জীবন বাঁচানো। এক্ষেত্রে পেশীগুলির অভ্যন্তরে কী ঘটছে তা জানা যায় না।

পুরুষ ও মহিলাদের উপর চার্লস ডালজিয়েল এর পরীক্ষাগুলি অনুসারে জানা যায়, ডিসি কারেন্টের সাথে বৈদ্যুতিক শক হওয়ার ক্ষেত্রে পেশীগুলির সংকোচন অবিরত চলতে থাকে। যেখানে এসি কারেন্টের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক শক অনুভব করা ব্যক্তির মধ্যে পেশী সংকোচনে সমন্বয়হীনতা লক্ষ করা যায়। অনিয়মিত পেশী সংকোচনের কারণে পেশীগুলির মারাত্মক ক্ষতি হয়।

ত্বকের ক্যাপাসিটিভ আচরণের কারণে, ভোল্টেজ দ্রুত পরিবর্তিত হলে আরও বেশি কারেন্ট শরীরে প্রবেশ করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে ভোল্টেজের দ্বিগুণ বৃদ্ধি হলে Current সাতগুণ সাত গুণ বৃদ্ধি পায়! (এরপর তো আর এসির শক্তি নিয়ে কোন কথা বলা চলে না)। একারণে এসি কারেন্টের মতো একই প্রভাব তৈরি করতে আরও বেশি পরিমান ডিসি কারেন্টের প্রয়োজন।

এখন, সব দিক বিবেচনা করা বলা যায় যে, এসি কারেন্ট ডিসি কারেন্টের চেয়ে বেশি বিপজ্জনক। তাই বলে বিদ্যুতের ভয়ে ভীত হওয়া যাবেনা।

তবে আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে এসি কারেন্ট এবং ডিসি কারেন্ট যাই হোক না কেন উভয়ই মানবদেহের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাই Current নিয়ে কাজ করার সময় নিজের সুরক্ষার বিষয়টি যত্নসহকারে দেখা উচিৎ।

কপিরাইট মুক্ত ফটো ডাউনলোড করার সেরা ১০ টি ওয়েবসাইট

আমরা আমাদের ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক প্রয়োজনে বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে প্রায়ই অসংখ্য ফটো ডাউনলোড করি৷ আবার কখনো কখনো নিজের প্রয়োজনে এসব ফটোর বিভিন্ন অংশের পরিবর্তন করেও ব্যবহার করি। অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে ফটো এনে নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করলে আপনি অনেক সময় কপিরাইট আইনের আওতায় পড়ে যেতে পারেন। কি হবে আপনার ফটো কপিরাইট খেলে?
কপিরাইটের জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন আইন চালু রয়েছে। আমেরিকাতে একটি কপিরাইটের জন্য কপিরাইটকারীর 750 ডলার থেকে 30,000 ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তবে ফটোর আসল মালিক চাইলে কপিরাইটকারীর জটিমানা 150,000 ডলার পর্যন্তও যেতে পারে।
তাহলে বুঝায় যাচ্ছে কপিরাইট ফটো ব্যবহার করা একজনের জন্য কত বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তবে এর থেকে পরিত্রাণের সুযোগও রয়েছে। বর্তমানে অনেক ওয়েবসাইট আছে যারা কপিরাইট মুক্ত অসংখ্য উচ্চ-মানের ফটো আপনার ব্যক্তিগত বা বানিজ্যিক ক্ষেত্রে ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এসকল কপিরাইট মুক্ত ফটো আপনি বিনাখরচে আপনার ইচ্ছে মতো ব্যবহার করতে পারবেন। চাইলে অনেক ফটোর বিভিন্ন অংশ পরিবর্তন করেও আপনি আপনার সাইটে ব্যবহার করতে পারবেন। ইতিহাস-ঐতিহ্য থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ে সকল গুরুত্বপূর্ণ ফটোই আপনি এসকল সাইটে বিনামূল্যে পাবেন। এমনি ১০ টি সেরা ওয়েবসাইট হলোঃ

1. Freerange

freerange

একবার আপনি Freerage এ বিনাখরচে নিবন্ধন করে সদস্য হয়ে গেলে , হাজার হাজার উচ্চ-রেজোলিউশনের স্টক ফটো (high-resolution image) বিনা ব্যয়ে আপনার নখদর্পণে চলে আসবে। খুব সহজেই আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ফটো খুঁজে নিতে পারবেন। প্রত্যেকটি ফটো ক্যাটাগরী অনুযায়ী সাজানো থাকে, যা আপনাকে আপনার পছন্দের ছবি খুঁজে পেতে সহায়তা করতে পারে। ওয়েবসাইটের সমস্ত ফটো ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করতে পারবেন।
তাছাড়া ফটোগ্রাফারদের জন্য রয়েছে দারুন সুযোগ। যেসকল ফটোগ্রাফার Freerange এ অবদান রাখেন তাদেরকে তখন গুগল অ্যাডসেন্স উপার্জন ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
অর্থাৎ আপনি এখান থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। হাজার হাজার অন্যান্য ফটোর পাশাপাশি, এই সাইটে প্রায় 20,000 সিসি0 (CC0) ফটো রয়েছে।

2. Unsplash

Unsplash

Unsplash হ’ল একটি অনলাইন বিপণন সংস্থা যা আপনার ডিজাইনের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য নিবেদিত। বিনাখরচায় স্টক ফটোগ্রাফি সরবরাহ করার পাশাপাশি, Unsplash এর মেডউইথ(Madewith) সেকশনের সাহায্যে ব্যবহারকারীরা তাদের নিজেদের গ্রাফিক ডিজাইনের কাজও প্রদর্শন করতে পারে।
এখানে ফটো গুলো খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করা আছে। সার্চ করার পাশাপাশি স্কর্ল-ডাউন করে এই সাইট ফটোগুলো থেকে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ফটো ডাউনলোড করতে পারবেন।
তবে চাইলে এতে আপনি ফটোর সাইজও (Small, Medium, Large, Original size) সিলেক্ট করে ডাউনলোড করতে পারবেন।
Unsplash হতে পারে ফটো আপলোড-ডাউনলোডের জন্য আপনার পছন্দের একটি সাইট।

3. Pexels

Pexels

Pexels এমন একটি ওয়েবসাইট যা আপনাকে সর্বদা সহায়তা করতে চায়। 2015 সাল থেকে এর যাতরা শুরু হয়েছে, বর্তমানে এটি একটি নামী স্টক ফটো লাইব্রেরি হয়ে উঠেছে। তাদের মিশনের বিবৃতিটি তাদের লক্ষ্যকে সর্বোত্তম করে তুলেছে। তাদের মূল বিবৃতটি হলোঃ

We help millions of designers, writers, artists, programmers and other creators to get access to beautiful photos that they can use freely which empowers them to create amazing products, designs, stories, websites, apps, art and other work. We call it: “Empowering Creators”—Pexels.com

Pexels একটি ইউনিক ওয়েবসাইট, এটি কেবল Pexels ওয়েবসাইটে থাকা ফটোগুলো প্রদর্শন করে না। এটি অন্যান্য উচ্চ-মানের ওয়েবসাইট যেমন লিটল ভিজ্যুয়াল (Little Visulas) থেকে ফটোগুলো আউটসোর্স করে।
এখানে আপনার একাউন্ট তৈরি করারও সুযোগ রয়েছে। আপনি আপনার একাউন্টে ইচ্ছে মতো ফটো আপলোড করতে পারবেন।
সর্বোপরি, Pexels ওয়েবসাইট সর্বোচ্চ মানের ফটোগুলো নিশ্চিত করতে এর ফটোগুলো স্ক্রীন করে। তাছাড়া আপনি এই সাইট থেকে কপিরাইটমুক্ত স্টক ভিডিওগুলোও ডাউনলোড করতে পারেন।

4. Life of Pix
Life of Pix

ঘন্টার মধ্যেই আপনি Life of Pix এর উপলভ্য সুন্দর কপিরাইট-মুক্ত ফটোগুলোর মধ্যে সহজেই নিজেকে হারিয়ে ফেলতে পারেন। এখানকার প্রত্যেকটি ফটোই উচ্চ-রেজোলিউশনের(high-resolution image)। এগুলো ডাউনলোড করার পাশাপাশি শেয়ার করতে পারবেন টুইটার, ফেসবুক সহ আপনার পছন্দের অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এটি মন্ট্রিলের LEEROY বিজ্ঞাপন সংস্থা দ্বারা নির্মিত, বিনামূল্যে এবং পাবলিক ডোমেন ফটোগ্রাফির জন্য একটি বড় আস্তানা।
তাছাড়া, আপনি Life of Pix ওয়েবসাইটটিতে অনেক চিত্তাকর্ষক স্টক ভিডিও ফুটেজ পাবেন, যা বিনামূল্যে আপনার প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত বা ব্যবসা ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারবেন পাওয়া যায়।

5. StockSnap

StockSnap

SockSnap আপনাকে বিনামূল্যে স্টক ফটোর একটি দুর্দান্ত এবং বিস্তৃত গ্রন্থাগার সরবরাহ করবে। শত শত উচ্চ-মানের ফটো প্রতিনিয়ত এতে যোগ করা হচ্ছে।
Snap একটি ভাল ফটোগ্রাফার গ্রুপের ফটো স্টক কারখানা। StockSnap এর প্রতিটি একক ফটো আপনি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন। ব্যক্তিগত বা ব্যবসার জন্য যেকোন ক্যাটাগরীর বিনামূল্যে ফটো ডাউনলোডের একটি বড় সাইট হলো এটি। এখানকার প্রতিটি ফটো আপনি আংশিক বা সম্পূর্ণ মডিফাই করেও ব্যবহার করতে পারবেন। যারা কপিরাইট মুক্ত ভাল মানের ফটো ডাউনলোড করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আকাঙ্ক্ষিত ওয়েবসাইট হতে পারে।

6. Pixabay

Pixabay

Pixabay হল আরেকটি ফটো সংগ্রহস্থল যা অন্যান্য ফটো হোস্টিং সাইটগুলোর ফটোগুলোকে একীভূত করেছে।
এটি সর্বদা আপনার নিজের ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে ভাল ফটোগুলো স্টক করার চেষ্টা করে। এটি প্রারম্ভিক এবং পেশাদার উভয় ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি দুর্দান্ত উৎস। এই সাইটে বিনামূল্যে ডাউনলোডযোগ্য 1.7 মিলিয়নেরও বেশি উচ্চ-মানের ফটো এবং ভিডিও রয়েছে।
তাছাড়া এই সাইট থেকে আপনি ফটো, ভিডিও ডাউনলোডের পাশাপাশি অসংখ্য মিউজিক (music), ভেক্টর গ্রাফিক্স (Vector graphics), ইলাস্ট্র্যাশনস (Illustrations) ডাউনলোড করতে পারবেন।

7. Wikimedia

Wikimedia

Wikimedia Commons সত্যই চমকপ্রদ চিত্রের সংগ্রহশালা সরবরাহ করে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত ফটো থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর ফটো সমস্তই আপনি এখানে পাবেন। ফটো, ভিডিও, অডিও সহ এখানে প্রায় 61 মিলিয়নেরও বেশি বিনামূল্যে ব্যবহারযোগ্য ফাইল রয়েছে।
এটি গ্রাফিক ডিজাইনার, ফটোগ্রাফার এবং শিল্পীদের বিনামূল্যে, উচ্চমানের ফটো প্রাপ্তির একটি বড় সাইট। ফ্রি ফটো, শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য উৎসর্গীকৃত একটি বৃহত্তর সংস্থার অংশ হলো wikimedia।

8. Burst

Burst

তাদের ভাষ্যমতে, আপনি যখন খুব কষ্ট সহকারে একটি কাজ করেন তখন আপনি কিছু ভাল ফলাফল উপভোগ করতে পারবেন, আর Burst হলো এমনি একটি ওয়েবসাইট।

Burst কেবল অন্বেষণ করার জন্য একটি চটজলদি ইন্টারফেস সরবরাহ করে না, তারা আপনাকে আপনার পছন্দের ফটো সিলেক্ট করতে একটি সুন্দর ফ্লাটফর্ম উপহার দিবে। কপিরাইট ছাড়াই যেকোনও ওয়েবসাইটে ছবি যোগ করা বা গ্রাফিক ডিজাইনের জন্য ফটো ব্যবহার করার জন্য এটি নিম্ন-এবং উচ্চ মানের উভয় ফটোই সরবরাহ করে।
আপনার যদি বিনাখরচায় উচ্চ-মানের ফটোগুলোর একটি বিশাল অনলাইন সংগ্রহশালা দরকার হয় তবে অবিলম্বে Burst ওয়েবসাইটটি বুকমার্ক করতে পারেন।

9. KaboomPics

KaboomPics

KaboomPics একটি বৈধভাবে চিত্তাকর্ষক ফটো স্টক উদ্যোগ। ইউআই (UI) নকশা থেকে শুরু করে বিশাল জলাশয় বা মহাকাশের ছবি পর্যন্ত আপনি নিজের প্রয়োজন মতো ফটো খুব সহজে খুঁজে পাবেন। কপিরাইট মুক্ত রয়্যাল ফটো স্টক সাইটগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম একটি।
এটি একটি ইউনিক ওয়েবসাইট, কারণ এখানে আপনি আপনার পছন্দের কালার সিলেক্ট করে উক্ত কালারের ফটো সমূহ ডাউনলোড করতে পারবেন।
তাছাড়া ফটো স্টকের পাশাপাশি এই সাইটে বেশ ভাল মানের অসংখ্য ফ্রি ব্লগ রয়েছে, যেগুলো ফটোসুট থেকে শুরু করে যেকোন ব্যাপারে আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

10. Vintage Stock Photo

Vintage Stock Photo

Freerange এর আরেকটি টিম একটি নতুন ফ্রি সাইট পরিচালনা করে যা ঐতিহাসিক ফটোগুলোতে বিশেষায়িত, যার নাম Vintage Stock Photo।
আগে এই সাইটে অর্থ প্রদানের মাধ্যমে উচ্চ-রেজোলিউশনের এসব ফটো ব্যবহার করতে হতো, তবে এখন আপনি কয়েক হাজার ডলার মূল্যমানের ঐতিহাসিক ছবিগুলি কোনও অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই যেকোন প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফটো সহ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের ফটোর একটি বড় সংগ্রহশালা হলো Vintage Stock Photo। কপিরাইটমুক্ত এই ফটোগুলোর ব্যাপ্তি একাধিক দশক ব্যাপী এবং যুগে যুগে জীবনের দুর্দান্ত স্ন্যাপশট এই সাইট আপনাকে সরবরাহ করে।

ট্রান্সফরমার কি? ট্রান্সফরমারের গঠন এবং প্রকারভেদ

0

ট্রান্সফরমার এমন একটি স্থির ইলেকট্রোমেগনেটিক ডিভাইস যার সাহায্যে পাওয়ার এবং ফ্রিকুয়েন্সি অপরিবর্তিত রেখে ভোল্টেজ এবং কারেন্টের মান প্রয়োজন অনুযায়ী কমিয়ে বা বাড়িয়ে কোন রকম বৈদ্যুতিক সংযোগ ছাড়াই ইলেকট্রোমেগনেটিক ইন্ডাকশনের (আবেশ) মাধ্যমে এক কয়েল থেকে অন্য কয়েলে স্থানান্তর করা যায়।

ট্রান্সফরমারে সাধারণত দুইটি উইন্ডিং থাকে।

  1. প্রাইমারি উইন্ডিং
  2. সেকেন্ডারি উইন্ডিং

ট্রান্সফরমারের ক্ষেত্রেঃ

  1. পাওয়ার সবসময় একই থাকে
  2. ফ্রিকুয়েন্সি সবসময় একই থাকে
  3. ভোল্টেজ এবং কারেন্ট পরিবর্তিত হয়

তাহলে এখানে মজার বিষয় হচ্ছে Transformer দিয়ে আপনি যত দুরেই কারেন্ট সাপ্লাই করুন না কেন আপনার পাওয়ার একই থাকবে এবং একই মানের ফ্রিকুয়েন্সি পাবেন

ট্রান্সফরমারের উভয় কয়েল বা সার্কিট এর জন্য একটি সাধারণ মেগনেটিক সার্কিট থাকে। ট্রান্সফরমারের যে সার্কিট সাপ্লাইয়ের সাথে সংযুক্ত থাকে তাকে প্রাইমারি এবং যেটি থেকে লোডে পাওয়ার সাপ্লাই হয় তাকে সেকেন্ডারি বলা হয়।

প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি সার্কিট হল সুপার এনামেল ইনসুলেশনযুক্ত তামার তারের কয়েল বিশেষ। এই দুইটি সার্কিটের কয়েলের মাঝখানে একটি কমন ম্যাগনেটিক সার্কিট সার্কিট তৈরির জন্য এদেরকে একটি স্টিলের (ইস্পাত) ফ্রেমে জড়ানো থাকে।

ট্রান্সফরমার এর গঠন (Structure of a Transformer)

ট্রান্সফরমারে প্রধানত দুইটি অংশ থাকে।

  1. ট্রান্সফরমার কোর (Core)
  2. ট্রান্সফরমার কয়েল (Coil)

ট্রান্সফরমার কোর (Core)

সিলিকন স্টিলের পাতলা শিট বা পাত কেটে কোর তৈরি করা হয়। প্রত্যেকটি কোর ভালভাবে বার্নিশ করা হয় যাতে তারা পরস্পর থেকে ইলেকট্রিক্যালি আইসোলেট (বিচ্ছিন্ন) থাকে। অনেকগুলো কোর একসাথে স্থাপন করে একটি ফ্রেম তৈরি করা হয়। এই ফ্রেমটিই প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কয়েলের মধ্যে ম্যাগনেটিক সার্কিট হিসেবে কাজ করে।

ট্রান্সফরমার কয়েল (Coil)

সুপার এনামেল তার দ্বারা কয়েল তৈরি করে কোরের উপর বসিয়ে প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি উইন্ডিং করা হয়।প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি কয়েলের মাঝখানে ইলেকট্রিক্যাল কোন সংযোগ নেই। তবে কোরের মাধ্যমে মেকানিক্যালি সংযোগ করা থাকে।

বড় বড় ট্রান্সফরমারগুলাতে কোর ,কয়েল ছাড়াও বিভিন্ন অংশ থাকে। যেমনঃ

  1. ট্রান্সফরমার ট্যাংক
  2. কনজারভেটর
  3. বুশিং
  4. ব্রিদার
  5. টেপ চেঞ্জিং গিয়ার
  6. বিস্ফোরণ বা এক্সপ্লোশন ব্যান্ড

ট্রান্সফরমারের প্রকারভেদ (Types of Transformers)

Transformar এর বিভিন্ন ধরনের শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। নিম্নে তিন ধরনের সম্পর্কে আলোচনা করা হলঃ

কার্যপ্রণালি অনুসারে ট্রান্সফরমার ২ প্রকার।

  1. স্টেপ-আপ Transformer
  2. স্টেপ ডাউন Transformer

ফেজ সংখ্যার উপর ভিত্তি করে ট্রান্সফরমার ২ প্রকার

  1. সিঙ্গেল ফেজ Transformer
  2. থ্রি ফেজ Transformer

ব্যবহার বা প্রয়োগের দিক থেকে ট্রান্সফরমারকে আবার ৪ ভাগে ভাগ করা যায়

  1. পাওয়ার Transformer
  2. ডিস্ট্রিবিউশন Transformer
  3. ইন্সট্রুমেন্ট Transformer
  4. অটো Transformer

স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার (Step-Up Transformer)

যে ট্রান্সফরমারের প্রাইমারিতে কম ভোল্টেজ সাপ্লাই দিয়ে সেকেন্ডারিতে বেশি ভোল্টেজ পাওয়া যায় তাকে স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার বলে। এ ধরনের Transformar এ প্রাইমারির চেয়ে সেকেন্ডারিতে পাক সংখ্যা বেশি থাকে। ট্রান্সমিশন লাইনের শুরুর দিকে এই ধরনের Transformer বসানো হয়।

স্টেপ ডাউন ট্রান্সফরমার (Step-Down Transformer)

যে ট্রান্সফরমারের প্রাইমারিতে বেশি ভোল্টেজ সাপ্লাই দিয়ে সেকেন্ডারিতে কম ভোল্টেজ পাওয়া যায় তাকে স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার বলে। এ ধরনের Transformar এ সেকেন্ডারির চেয়ে প্রাইমারিতে পাক সংখ্যা বেশি থাকে। ট্রান্সমিশন লাইনের শেষ প্রান্তে এই ধরনের Transformar বসানো হয়।

আপনার উপকারে আসতে পারে এমন কিছু আর্টিকেলঃ


তো আজ এ পর্যন্তই। সামনে আবারো নতুন কোন টপিক নিয়ে লিখবো ইনশাআল্লাহ। কোন কিছু জানার থাকলে কমেন্টে লিখুন আমরা উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। আর পোস্টটি ভাল লাগলে অবশ্যই ফেসবুকে শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

মোবাইল ফোনে ভাইব্রেশন কিভাবে কাজ করে?

0

মোবাইল ফোনের ভাইব্রেশন এর সাথে আমরা সকলেই পরিচিত। ফোনে কোন কল বা নোটিফিকেশন আসলে এটি অনবরত ভাইব্রেট করে ফলে আমরা কল বা নোটিফিকেশন সম্পর্কে জানতে পারি।

আমরা সকলেই জানি মোবাইল ফোন একেক সময় একেক ধরণের ভাইব্রেশন করে।

যেমন, মোবাইলে কল আসলে এক ধরনের ভাইব্রেশন বা কম্পন, নোটিফিকেশন আসলে এক ধরনের আবার এলার্মের সময় দেখা যায় আরেকধরনের কম্পন হচ্ছে!

কখনো কি খেয়াল করেছেন বা ভেবে দেখেছেন কেন বা কিভাবে এমন হয়?

স্মার্টফোনে ভাইব্রেটরগুলো উপরের ছবিতে দেখানো মত একটি ছোট উপাদান দ্বারা তৈরি হয়ে থাকে। এই কম্পন সৃষ্টির জন্য মোবাইলে দুই ধরণের মোটর রয়েছে:

  1. eccentric rotating motor (ERM) এবং
  2. linear resonant actuator (LRA)

কম্পন যেমনি হোক না কেন, কম্পনের প্রক্রিয়াটি সফ্টওয়্যার বা হার্ডওয়্যার থেকে প্রাপ্ত কোন সংকেত দিয়ে শুরু হয কিংবা স্ক্রিনে টাচ করা মাধ্যমে শুরু হয়।

মোবাইলে কোন কল বা নোটিফিকেশন আসলে অথবা স্ক্রিনে টাচ করলে হার্ডওয়্যার থেকে বৈদ্যুতিক সংকেত (ইলেকট্রিক্যাল সিগনাল) মাইক্রো প্রসেসরে চলে যায়। বিভিন্ন টাচ সেন্সেশনের জন্য বিভিন্ন প্রোগ্রাম করা থাকে।

আপনার ফোনের কাজের উপর মাইক্রোপ্রসেসর সিদ্ধান্ত দেয় যে ঠিক কি ধরনের ভাইব্রেশন প্রয়োজন এবং সে অনুযায়ী সিগনাল প্রেরণ করে। ফলে আমরা বিভিন্ন প্রয়োজনে বিভিন্ন রকম কম্পন অনুভব করি।

একটি ফোন কত ফ্রিকোয়েন্সিতে কম্পন করে?

ফোন উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির ব্যবহৃত কম্পন মোটর স্পেসিফিকেশনগুলি বিশ্লেষণ করে জানা যায় বর্তমানে মোবাইল ফোনে ভাইব্রেশন মোটরের ফ্রিকোয়েন্সি প্রায় 160 হার্জ এবং 180 হার্জ এর মধ্যে।

মোবাইল কম্পন কি আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে?

আমাদের মোবাইল ফোনের ভাইব্রেশন গুলি কিন্তু মোটেও ঝুকিমুক্ত নয়। এটি আমাদের দেহের কিছু না কিছু ক্ষতি করে।

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে মোবাইল ফোনের কম্পনের কারণে মাথা-ব্যথা, পেটের সমস্যা এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে ফেলতে পারে।এছাড়াও এ কম্পন স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে।

তাই আমাদের সকলের স্মার্টফোন ব্যবহারে সচেতন হতে হবে।

আরো পড়ুনঃ অনলাইন ইনকাম সাইট থেকে সার্ভে করে কিভাবে আয় করবেন?


তো আজ এ পর্যন্তই থাকলো। পোস্টটি ভাল লাগলে ফেসবুকে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আর কিছু জানার থাকলে কমেন্টে প্রশ্ন করুন। ধন্যবাদ

যেমন ছিল কিংবদন্তি খনার বচন

খনার বচন

ছোট বেলায় দাদা-দাদির বা মা-বাবার মুখে আমরা অনেকেই বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কিত খনার বচন কম-বেশি শুনেছি। প্রাচীন যুগের সেই ভবিষ্যতবানী বর্তমানে তেমন মূল্য না থাকলেও সেই সময়ের জন্য এগুলো ছিল এক-একটি অমোঘ বানী। এখনও গ্রামে-গঞ্জে মুরুবিদের মুখে খনার বচন শুনা যায়। আধুনিক যুগে এসে সেই প্রাচীন পর্যবেক্ষণ গুলো তলিয়ে গেলেও বাংলা বর্ষ-পুঞ্জিকায় এর কিছু লিপি প্রতিবছরই দেখা যায়। “খনার বচন” এর লেখক খনাকে নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন মতবাদ। কিংবদন্তির সূত্রধরে যতটুকু জানা গেছে, তাতে বলা যায় খনা ছিলেন সিংহল রাজার তনয়া। আনুমানিক ৮০০ থেকে ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে তার আবির্ভাব। কিংবদন্তি অনুযায়ী তিনি বসবাস করতেন পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগণা জেলার বারাসাত মহকুমার দেউলিয়া গ্রামে। কথিত আছে তাঁর আসল নাম ছিল লীলাবতী। পূর্ণ্যক্ষণে তাঁর জন্ম হয়েছিল বলেই তিনি ‘ক্ষণা’ বা ‘খনা’ নামে পরিচিত ছিলেন। মহারাজ বিক্রমাদিত্যের এক পুত্র হয়। তার নাম রাখা হয় মিহির। মহারাজ বিক্রমাদিত্যের প্রখ্যাত জ্যোতির্বিদ বরাহ পুত্রের জন্মপত্রিকা গণনা করে দেখেন পুত্রের আয়ু মাত্র এক বছর। পুত্রের এই অকাল মৃত্যু যাতে দেখতে না হয় তাই পুত্রকে একটি পাত্রে রেখে জলে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পাত্রটি ভাসতে ভাসতে সিংহলে উপনীত হয়। সিংহলরাজ রূপবান ও সুলক্ষণযুক্ত শিশুটিকে নিজের সন্তানের মতো বড় করেন। এই মিহির ও সিংহলরাজের কন্যা খনা উভয়েই জ্যোতিশাস্ত্রে শাস্ত্রজ্ঞ হন এবং তাঁরা শেষে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। গণনার মাধ্যমের মিহিরের আসল পরিচয় জানতে পেরে মিহির তাঁর স্ত্রী খনাকে নিয়ে জন্মভূমিতে ফিরে আসেন। খনার জ্ঞানের সাথে সেকালের কেউ খুলিয়ে উঠতে পারছিল না। একদিন মহারাজ বিক্রমাদিত্য আকাশে কতগুলো তারা আছে তা জানতে চান। মহারাজ বিক্রমাদিত্যের পুত্র মিহির এই কঠিন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য একদিন সময় চান। পিতা-পুত্রকে ভাবনা-চিন্তায় মগ্ন দেখে খনা গণনা করে বলে দেন আকাশে তারার সংখ্যা কত। খনার এমন অধীত জ্ঞান দেখে সম্মানহানির আশংকায় পিতা বিক্রমাদিত্যের আদেশে পুত্র মিহির খনার জিব্বা কেঁটে ফলেন, এতে খনার মৃত্যু হয়। এভাবে পরিসমাপ্তি ঘটে এক কিংবদন্তি খনার জীবন। মানব কল্যাণে খনা যেসকল ‘বচন’ উপহার দিয়ে গেছেন এগুলো মানব সমাজের উপকারে কাজে লেগেছে বছরের পর বছর। কৃষিক্ষেত্রের ‘খনার বচন’ গুলো দেখিয়েছে কৃষকদের সাফল্যের মুখ। খনার যেসকল ‘বচন’ লিপিবদ্ধ হয়েছিল তারই কয়েকটি আপনাদের সামনে তুলা ধরা হলোঃ

বিভিন্ন ফল-শস্য চাষ সম্পর্কে খনার বচনঃ

খনার বচন

কলা চাষঃ

যদি পোঁত ফাল্গুনে কলা, কলা হবে মাস ফসলা।

অর্থাৎ, ফাল্গুন মাসে কলা গাছ রোপণ করলে প্রতিমাসে কলার ফলন হয়।

ভাদ্র মাসে রুয়ে কলা, সবংশে মলো রাবণ শালা।

ভাদ্র মাসে কলা চাষ করলে ভাল ফলন পাওয়া যায় না।

তুলা চাষঃ

বৈশাখের প্রথম জলে, আশু ধান দ্বিগুণ ফলে।

শুন ভাই খনা বলে, তূলায় তূলা অধিক ফলে।।

বৈশাখ মাসের প্রথম বৃষ্টি হলে আউশ ধান ভাল ফলে। তেমনি তূলায় অর্থাৎ তূলা রাশি যে মাসের সমান, মানে কার্তিক মাসে যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে তূলার অধিক ফলন হয়।

তিল চাষঃ

ফাল্গুনের আট চৈত্রের আট।

সেই তিল দায়ে কাট।।

ফাল্গুন মাসের শেষ আট দিন ও চৈত্র মাসের প্রথম আট দিন। এই ষোল দিন তিল বুনার উত্তম সময়।

সরিষা চাষঃ

খনা বলে চাষার পো।

শরতের শেষে সরিষা রো।।

অর্থাৎ শরৎকালের শেষে সরিষা রোপণ করলে প্রচুর ফলন পাওয়া যায়।

ধান ও পান চাষঃ

এক অঘ্রাণে ধান।   তিন শ্রাবণে পান।

ডেকে খনা গান।   রোদে ধান, ছায়ায় পান।

যে জমিতে রোদ আছে, সে জমিতে ধান চাষ করতে হয় আর যে জমিতে রোদ কম থাকে তাতে পান চাষ করতে হয়। এভাবে চাষ করলে অধিক ফলন পাওয়া যায়।

পান পুঁতলে শ্রাবণে খেয়ে না ফুরোয় রাবণে।

শ্রাবণ মাসে প্রচুর পানের ফলন হয়। হরদম খেয়েও শেষ করা যায় না।

পটল চাষঃ

বুনলে পটোল ফাল্গুনে, ফল বাড়ে দ্বিগুণে।

ফাল্গুন মাসে পটল চাষ করলে সেই চাষী প্রচুর ফলন পায়।

ভুটা চাষঃ

থাকে যদি টাকার গোঁ, চৈত্র মাসে ভুটা রো।

টাকা রোজগারের ইচ্ছে থাকলে, চৈত্র মাসে ভুটার চাষ করো। তাহলে প্রচুর লাভ করা যায়।

আম কাঁঠাল চাষঃ

হাত বিশেক করি ফাঁক, আম কাঁঠাল পুঁতে রাখ।

ঘন ঘন বসে না, ফল তাতে হবে না।।

কুড়ি হাত অন্তর অন্তর আম, কাঁঠাল গাছ লাগাতে হয়। ঘন করে গাছ লাগালে ভাল ফলন হবে না।

তাল চাষঃ

এক পুরুষে রোয় তাল, পর পুরুষে করে পাল।

তাল পড়ে যে সে খায়, তিন পুরুষে ফল পায়।

বাবা তাল গাছ লাগালে ছেলের হাতে সেই গাছ বড় হয়। তাতেই তাল ধরে। পরবর্তী কয়েক পুরুষ সেই তাল খেতে পারে। তাছাড়াও লাউ, কলাই, মটর, মুগ, মরিচ, কুমড়া, শশা, ওল, বেগুন, আলু, কচু, হলুদ, তামাক, নারিকেল, শুপারি, বাঁশ, আখ, পাট ইত্যাদি চাষের উপযুক্ত সময় সম্পর্কে রয়েছে খনার বচন।

বিভিন্ন গাছপালা চাষের সময় ও পদ্ধতি সম্পর্কে খনার বচনঃ

খনা বলে হাল নিয়ে মাঠে যবে করিবে গমন।

আগে দেখ চাষীভাই, যেন হয় শুভক্ষণ।।

শুভক্ষণ দেখে সদা করিবে যাত্রা।

পথে যেন না হয় তখন অশুভ বার্তা।।

মাঠে হাল চালাতে যেতে হলে, শুভদিন দেখে মাঠে হাল নিয়ে যেতে হবে৷ রাস্তায় যদি কোন অশুভ লক্ষণ বা সংবাদ শুনতে হয়, তাহলে মাঠে না গিয়ে বাড়িতে ফিরে আসাই উচিত।

বলদ থাকতে করে না চাষ, তার দুঃখ বারোমাস।

ঘরে বলদ থাকতেও যে খাটায় না, ঘরে বসিয়ে রাখে তার সারা বছরই দুঃখ লেগে থাকে। তার জমিতে চাষাবাদ হয় না, ফলে তার অন্ন-বস্ত্রের অভাবে পড়তে হয়।

ষোল চাষে মুলা, তার আধা তুলা।

তার আধা ধান, বিনা চাষে পান।।

অর্থাৎ, মুলা চাষ করার জন্য জমিতে ষোলটি চাষ দিতে হয়, তুলার জন্য দিতে হয় আট চাষ। ধান চাষ করতে চাষের প্রয়োজন হয় চার এবং পান চাষ করতে কোন চাষের দরকার হয় না। এই পদ্ধতিতে চাষ করলেই ভাল ফলন হয়।

আষাঢ়ের পঞ্চদিনে রোপণ যে করে ধান।

বাড়ে তার কৃষিবল, কৃষিকার্যে হয় সফল।।

আষাঢ় মাসের প্রথম পাঁচদিনের মধ্যে যে কৃষক ধান রোপণ করে, সে কৃষিকাজে সফল হয়।

থোড় তিরিশে, ফুলো বিশে।

ঘোড়ামুখে তেরো জেনো, বুঝে সুঝে কাট ধান্য।।

অর্থাৎ থোর জন্মানোর তিরিশ দিন পরে, ফুল বের হবার বিশ দিন পরে, শিষ নত হওয়ার তেরো দিন পরে ধান কাটতে হয়। অন্যথায় ভাল ফল পাওয়া যায় না।

যাত্রাকাল সম্পর্কে খনার বচনঃ

শূন্য কলসী শুকনা না, শুকনা ডালে ডাকে কা।

যদি দেখ মাকুন্দ ধোপা, এক পা যেওনা বাপা।

খনা বলে এও বেলি, যদি সামনে না দেখি তেলি।।

অর্থাৎ, কোথাও যাওয়ার সময় যদি শূন্য কলসি, শুকনো নৌকা দেখ, কাকের ডাক শুনো বা ধোপা দেখ এবং তেলি দর্শন হয় তাহলে অমঙ্গল আছে জানতে হবে।

ভূমিকম্প ও বন্যা বিষয়ক খনার বচনঃ

খনা বলে শুন শুন ওগো পতির পিতা।

ভাদ্র মাসে জলের মধ্যে নড়েন বসুমাতা।।

রাজ্যনাশ, গোনাশ, হয় অগাত বান।

হাতের কাঠা গৃহী ফেরে কিনতে না পায় ধান।।

অর্থাৎ, যে মাসে ভাদ্র মাসে বৃষ্টি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভূমিকম্প হয়, সে বছর খুবই ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে। মহামারি, দুর্ভিক্ষ, গোনাশ এতো বেশি পরিমাণে হয়ে থাকে যে মানুষেরা দ্বারে দ্বারে ঘুরেও এক মুঠো ভিক্ষা পায় না।

প্রাকৃতিক ও অন্যান্য দুর্যোগ সম্পর্কে খনার বানীঃ

খনার বচন

বাদ দিয়ে বর্ষা, খনার বচন ফর্সা।

শনি সাত মঙ্গল তিন, আর সব দিন দিন।

বর্ষার সময় বাদ দিয়ে অন্য সময় বৃষ্টি হলে, যদি শনিবার শুরু হয় তবে সাত দিন হয় এবং মঙ্গলবার শুরু হলে তিন দিন চলে। অন্য কোন দিন বৃষ্টি হলে তা একদিন চলে।

পৌষে গরমী বৈশাখে জাড়া প্রথম আষাঢ়ে ভরবে গাড়া।

যে বছর পৌষ মাসে গরম এবং বৈশাখ মাসে ঠান্ডা পড়ে, সে বছর প্রথম আষাঢ়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এবং শ্রাবণে অনাবৃষ্টি হয়ে থাকে।

ব্যাঙ ডাকে ঘন ঘন, শীঘ্র বর্ষা হবে জেনো।

ঘন ঘন ব্যাঙ ডাকলে বুঝতে হবে এবার বর্ষা হবে।

আমে ধান, তেতুলে বান।

যে বছর আমের ফলন ভাল হয়, সে বছর ধানের ফলন ভাল হয়। তেতুলের ফলন বেশি হলে বন্যা হয়।

খনা বলে শুনহ বানী, শ্রাবণ ভাদরে নাইক পানি।

দিনে জল রাতে তারা, এই দেখবে দুঃখের ধারা।

শ্রাবণ মাসে যদি বৃষ্টি না হয় এবং দিনে বৃষ্টি ও রাতে আকাশ পরিষ্কার থাকে, তাহলে মানুষের দুঃখের আর শেষ থাকে না।

খনা বলে শোণ চাষা, কার্তিকে পূর্ণিমা কর আশা।

নির্মল মেঘ যদি রাত রবে, রবিশস্য ভার ধরনী না সবে।

কার্তিক মাসে পূর্ণিমার রাতে যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে। অর্থাৎ মেঘমুক্ত নির্মল আকাশ হলে, রবিশস্য প্রচুর পরিমাণে উৎপন্ন হয়৷

কি কর শ্বশুর লেখাজোখা, মেঘেই থাকে জলের রেখা।

কোদালে কুড়ুলে মেঘের গা, মধ্যে মধ্যে দিচ্ছে ঘা।

চাষাকে বলো বাঁধতে আল, আজ না হয় হবে কাল।

খনা তার শ্বশুর বলছে, শ্বশুরমশাই, মিছিমিছি গণনা করার দরকার নাই। মেঘ দেখলেই জলের লক্ষণ বুঝা যায়। যদি মেঘের আকৃতি খানা খানা (কোদাল কুড়ুলে) হয়, তবে বুঝতে হবে তাড়াতাড়ি বৃষ্টি হবে। তবে মাঝে মাঝে হালকা বৃষ্টিও হতে পারে। প্রকৃতির এই লক্ষণ দেখেই কৃষকের উচিত চাষের কাজে হাত দেওয়া, জমিতে আল দেওয়া। আজ যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে কালকেই হবে।

শরীরে তিলের অবস্থান ভেদে বিচারঃ

তিল

১. কপালের ডান দিকে নাকের ওপর তিল থাকলে দৈবধন ও যশলাভের সম্ভাবনা।

২. কপালের বাঁ দিকের তিল দুঃখী তথা অসৎ চরিত্রের লক্ষণ।

৩. কপালের বাঁ দিকের তিল অপব্যয়, নিন্দা, অখ্যাতির পরিচায়ক।

৪. চোখের নিচে তিল অধ্যাবসায়ীর লক্ষণ।

৫. নাকের ডান দিকের তিল দীর্ঘজীবন, ধনলাভ ও অধ্যাবসায়ের লক্ষণ।

৬. নাকের বা দিকের তিল অপব্যয়, নির্ধন ও মূর্খতার পরিচায়ক।

৭. কানের ভেতরে তিল ভাগ্য ও যশলাভের লক্ষণ।

৮. ঠোঁটের নিচে তিল বিলাসিতা ও প্রেমিক হওয়ার চিহ্ন।

৯. বাঁ দিকের গালের তিল দাম্পত্য প্রেমের সুখের চিহ্ন।

১০. গলায় তিল থাকা ধৈর্যশীলতা, ভক্তি এবং বিশ্বাসের পরিচায়ক।

১১. বুকে তিল সুস্থ দেহ ও ভোগের লক্ষণ।

১২. হৃদয়ের বিপরীত দিকে তিল নৃশংসতার পরিচায়ক।

১৩. পেটে তিল পেটুক তথা স্বার্থপরতা, পরিচ্ছন্ন প্রিয়তার লক্ষণ।

১৪. বুকের মধ্যে লোমযুক্ত তিল বিদ্যা ও কবিত্বশক্তির পরিচায়ক।

১৫. গর্ভস্থলে তিল ধনবান না হওয়ার লক্ষণ।

১৬. ডান হাতের তিল দৃঢ় দেহ, ধৈর্যশীলতার লক্ষণ।

১৭. ডান পায়ের তিল জ্ঞানের পরিচায়ক।

শরীরের বিভিন্ন অংশের স্পন্দনের মাধ্যমে শুভ-অশুভ বিচারঃ

খনার বচন

১. মাথা কাঁপলে মনের সন্তোষ, বিদ্যা লাভ এবং রাজদ্বারে সম্মান লাভ হয়।

২. চুল কাঁপলে চুল পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

৩. কপাল কাঁপলে ঐশ্বর্য লাভের সম্ভাবনা থাকে।

৪. ডান চোখ নাচলে বন্ধুর সাথে দেখা হয়, অর্থ প্রাপ্তি ঘটে।

৫. বাঁ চোখ কাঁপলে অর্থনাশ ও বিরোধ-বিতর্ক ঘটে থাকে।

৬. ডান চোখের ওপরের অংশ নাচলে সুখলাভ হয়।

৭. ডান চোখের নিচের অংশ কাপঁলে কষ্ট ভোগ ঘটে।

৮. ডান কান কাঁপলে স্ত্রীলাভ, বিদ্যালাভ এবং আত্মীয় বৃদ্ধি হয়।

৯. বাম কান নাচলে মাথায় ব্যথা হয়।

১০. দুটি কান একসাথে কাঁপলে অর্থলাভ ও মনে প্রশান্তি আসে। ১১. নাকের ডান দিক কাঁপলে জ্বর হয়।

১১. নাকের বাম দিক কাঁপলে অশুভ সংবাদ আসে।

১২. সম্পূর্ণ নাক কাঁপলে কঠিন রোগ বা মৃত্যু ভয় থাকে।

১৩. ঠোঁট কাঁপলে ভাল আহার সম্ভাবনা থাকে।

১৪. মুখের তালু নাচলে বিবাহ সম্ভাবনা থাকে।

১৫. বাম কাঁধ কাঁপলে অপমানিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

১৬. দুটো কাঁধ একসাথে কাঁপলে মৃত্যু ভয় থাকে।

১৭. বুক কাঁপলে শরীরে ব্যথা হয়।

১৮. ডান হাত কাঁপলে শক্তি বৃদ্ধি হয়।

১৯. বাম হাত কাঁপলে বিরোধ হবার আশঙ্কা থাকে।

২০. ডান পা কাঁপলে দূর দেশে যাওয়া সম্ভাবনা থাকে।

২১. বাম পা কাঁপলে সুখভোগ হয়।

২২. নাভি নাচলে দুঃস্বপ্ন দেখতে হয়।

২৩. কোমর কাঁপলে আমাশয় হবার সম্ভাবনা থাকে।

২৪. পিঠ কাঁপলে শূল রোগ হবার আশঙ্কা থাকে

২৫. উরু কাঁপলে ভয় হয়।

কাকের ডাকের মাধ্যমে শুভ-অশুভ গণনাঃ

খনার বচন

পাঁচ প্রকারের কাক আছে। কাকেরও প্রকার আছে!! হ্যাঁ, ভবিষ্যত গণনার ক্ষেত্রে কাকের বর্ণ ও আকার অনুযায়ী ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র, অন্ত্যজ এই পাঁচ প্রকারের কাক আছে।

ব্রাহ্মণ কাকঃ আকারে বড়, রং কালো, অত্যন্ত কর্কশ ডাক এবং চোখ দুটি দীর্ঘ।

ক্ষত্রিয় কাকঃ চোখ হরিতাভ পটিল বা নীলাভ বর্ণের এবং তীক্ষ্ম স্বর।

বৈশ্য কাকঃ ফ্যাকাশে কিংবা নীলাভ বর্ণের নিত্য চঞ্চল, কৃশ এবং নীলচে কিংবা সাদা বর্ণের চোখ বিশিষ্ট।

শূদ্র কাকঃ ছাই বর্ণের রোগা ও খসখসে হয়ে থাকে। এরা অনেকবার কা-কা করে।

অন্ত্যজ কাকঃ এদের গলা আর নক চকচকে হয়, গা আর চোখ সূক্ষ্ম এবং অচঞ্চল ও ধীর স্বর বিশিষ্ট।

ব্রাহ্মণ জাতীয় কাক যথার্থ উত্তর দেয় এবং উত্তর সঙ্গে সঙ্গে ফলবর্তী হয়। ক্ষত্রিয় জাতীয় কাক ব্রাহ্মণ জাতীয় কাকের মতো এতো ভাল উত্তর দিতে পারে না। এদের ভবিষ্যতবানী তিন দিনের মধ্যে ফলে। বৈশ্য জাতীয় কাকের ভবিষ্যতবানী ফলতে সাতদিন সময় লাগে। ভবিষ্যতবানী ফলতে সবচেয়ে বেশী সময় লাগে শূদ্র জাতীয় কাকের। এদের ভবিষ্যতবানী ফলতে প্রায় দশ দিনের মতো সময় নেয়। ভবিষ্যতবানী ফলার দিক দিয়ে ব্রাহ্মণ জাতীয় কাকের পরে অবস্থান অন্ত্যজ কাকের। এদের বানী পরেরদিনই ফলে। এবার দেখা যাক কাক কখন কিভাবে ডাকলে ‘খনার বচন’ অনুযায়ী আমাদের কি শুভ-অশুভের বার্তা দেয়।

? সূর্যমুখো হয়ে কর্কশ স্বরে কাক যদি ডাকে তাহলে আপাত কার্যসিদ্ধি হলেও পরিমাণে অমঙ্গলের সূচনা থাকে।

?কাক যদি সূযর্মুখো হয়ে স্থির এবং সুস্বরে ডাকে তাহলে কার্যসিদ্ধি সুনিশ্চিত।

?ছায়াময় স্থানে বসে সূর্যের দিকে মুখ করে শান্ত স্বরে যদি কাক ডাকে তাহলে অশুভ ভাবে কার্যসিদ্ধি হয়।

?প্রথমে সূর্যের দিকে মুখ করে ডেকে পরে যদি ছায়ার দিকে মুখ করে বসে থাকে তাহলে প্রথমে কাজ মঙ্গলদায়ক ভাবে সম্পন্ন হলেও শেষে অমঙ্গলের সম্ভাবনা থাকে।

?সূর্যোদয়ের সময় কাক যদি পূর্বদিকে নির্জন কোন স্থানে বসে ডাকে তাহলে মন বাসনা পূর্ণ হয় এবং রমনী লাভ হয়।

? দক্ষিণ-পূর্ব দিকের কোন স্থানে বসে কাক ডাকলে শত্রু দমন যুদ্ধে যেতে হয়।

? কর্কশ স্বরে দক্ষিণ দিকে বসে সকলাবেলা কাক ডাকলে শোক, ব্যাধি হয়ে থাকে। মৃত্যুও হতে পারে। তবে কাক যদি মৃদু স্বরে ডাকে স্ত্রী, অর্থ ও বিদ্যালাভ হয়।

?সকালবেলা দক্ষিণ-পশ্চিম কোণ থেকে কাক ডাকলে গর্হিত ব্যাপারে অংশীদার হতে হয়। মোটামুটিভাবে কার্য সম্পাদিত হয়।

?সকালবেলা পশ্চিম দিক হতে কাক ডাকলে বর্ষণ হয়। বস্তলাভ হয়, বাড়িতে নারী-পুরুষের আগমন ঘটে এবং দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয়।

?সকালবেলা উত্তর-পশ্চিম কোণ থেকে কাক ডাকলে সেইদিন ভাল খাদ্য জোটেনা, বাড়িতে অতিথির আগমন হয়। বিদেশ যাত্রার সম্ভাবনা থাকে।

?সকালবেলা লোকের দিকে চেয়ে উত্তর দিক হতে যদি কাক ডাকে তাহলে শোক, সাপের ভয়, দারিদ্র্য দুঃখ ভোগ করতে হয় তবে হারানো জিনিস খুঁজে পাওয়া যায় এবং মনের বাসনা পূর্ণ হয়।

?সকালবেলা উত্তর-পূর্ব কোণ থেকে কাক ডাকলে রোগ নিরাময় হয় এবং বাঞ্চিত দ্রব্য লাভ হয়।

? সকালবেলা মাথার ওপর কাক ডাকলে আকাঙ্ক্ষিত বস্তু লাভ হয়।

তাছাড়াও দিনের প্রথম তিন ঘন্টায়, দ্বিতীয় তিন ঘন্টায়, তৃতীয় তিন ঘন্টায় এবং দিনের শেষ প্রহরে কোথায় কিভাবে কাক ডাকলে কি ফল পাওয়া যায় তা খনার বচন থেকে জানা যায়। যাদের আরো অধিক জানার আগ্রহ আছে, আপনার খনার বচন সম্পর্কিত বই অথবা অনলাইনে এখন পিডিএফ পাওয়া যায়, সেখান থেকে পড়তে পারেন।

কোনটি সেরা ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান? (Website Builder)-(তুলনাকৃত)-২০২০

0

আপনি চাইলে কোনও প্রোগ্রামার নিয়োগ না দিয়ে ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলতে পারেন। পার্সোনাল কিংবা ছোটখাটো ব্যবসায়ের জন্য এটি একটি নিখুঁত সমাধান। তবে সেরা ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান খুজে বের করা নতুনদের জন্য অনেক ঝামেলার হতে পারে। কেননা,বাজারে প্রচুর ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, আপনি কীভাবে জানবেন কোনটি আপনার জন্য হতে পারে সঠিক সমাধান?

এই নিবন্ধে, আমরা আপনাকে সর্বাধিক জনপ্রিয় নির্মাতা কোম্পানী সুবিধা এবং অসুবিধা এর উপর নির্ভর করে সেরা ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বাছাই করতে সহায়তা করব।

আমরা এই নিবন্ধে নিম্নলিখিত ওয়েবসাইট নির্মাতা কোম্পানি গুলোকে তুলনা করব। যদি আপনি কোনও নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট নির্মাতাকে আগ্রহী হন, সেক্ষেত্রে নিচের নামগুলোর উপর ক্লিক করলেই সেটির সুবিধা এবং অসুবিধা বিস্তারিত দেখতে পারবেন।

  1. WordPress.org
  2. গেটর (Gator by HostGator)
  3. Domain.com
  4. Shopify
  5. WordPress.com
  6. Wix
  7. GoDaddy ওয়েবসাইট Builder

1. ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress)

WordPress.org (সেলফ-হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস হিসাবে পরিচিত) হল বিশ্বের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট বিল্ডিং প্ল্যাটফর্ম। ইন্টারনেটে সমস্ত ওয়েবসাইটের 35% এরও বেশি ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা চালিত!

বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাজারে আপনি ওয়ার্ডপ্রেসের দুটি সংস্করণ লক্ষ্য করে থাকবেন।

  1. সেলফ হোস্টেড WordPress.org
  2. WordPress.com

 আমরা এই নিবন্ধে পরে ওয়ার্ডপ্রেস.কম সম্পর্কে কথা বলব। আপনি আরও তথ্যের জন্য আমাদের WordPress.org বনাম WordPress.com তুলনা কিছুদিনের মধ্যে পড়তে পারবেন । খুব দ্রুতই এ বিষয়ে নিবন্ধ লেখা হবে।

সেলফ-হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস অর্থাৎ WordPress.org এর জনপ্রিয়তা, শক্তিশালী ফিচারস, এবং ব্যবহারের সহজলভ্যতার কারণে সেরা ওয়েবসাইট নির্মাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে।

ওয়ার্ডপ্রেস একটি ফ্রি এবং ওপেন সোর্স ওয়েবসাইট নির্মাতা কোম্পানি। এর মানে এই তালিকার অন্য যে কোনও অনলাইন ওয়েবসাইট নির্মাতার তুলনায় আপনার ওয়েবসাইটের উপর আপনার সর্বাধিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে।

সুবিধাঃ

ওয়ার্ডপ্রেস আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের প্রতিটি বিষয়ে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেয়। এটি যে কোনও ওয়েবসাইট তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ,ইকমার্স স্টোর, সামাজিক নেটওয়ার্ক , মেম্বারশীপ ওয়েবসাইট , ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট ইত্যাদি সহ আরও অনেক কিছু।

এখানে হাজার হাজার আগে থেকে তৈরি ওয়ার্ডপ্রেস থিম রয়েছে যা আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইনের জন্য ব্যবহার করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেসে Elementor এবং Divi এর মতো অসাধারণ ড্র্যাগ এবং ড্রপ পেইজ বিল্ডার কোম্পানি রয়েছে যারা আপনাকে সহজেই আপনার পেজ এবং পোস্টগুলি বিভিন্নভাবে সাজাতে দেয়।

আপনি ৫৫,০০০ এরও বেশি ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইনগুলিতে অ্যাক্সেস পাবেন । এগুলি ওয়ার্ডপ্রেসের অ্যাপগুলির মতো যা আপনার ওয়েবসাইটে অতিরিক্ত ফিচারস এবং কার্যকারিতা যুক্ত করে যেমন Contact form, Social Media tools, Live chats ইত্যাদি

ওয়ার্ডপ্রেস সম্পূর্ণরূপে কয়েক ডজন ভাষায় অনুবাদ হয়েছে এবং বহুভাষিক ওয়েবসাইট তৈরি করতে সহজেই ব্যবহার করা যেতে পারে ।

আপনি উপরোক্ত সমস্ত সুবিধা বিবেচনা করলে, ওয়ার্ডপ্রেস হ’ল বাজারের সবচেয়ে সস্তা এবং শক্তিশালী ওয়েবসাইট নির্মাতা।

এছাড়াও এটিতে অনেক শক্তিশালী SEO প্লাগইন রয়েছে যা আপনাকে সহজেই সার্চ ইঞ্জিনগুলিতে সর্বোচ্চ র‌্যাঙ্কিং পেতে সহায়তা করবে।

উপরের সমস্ত কারণ বিবেচনায়, ওয়ার্ডপ্রেস হল ওয়েব ডেভেলপার এবং ব্যবসায়ের মালিক উভয়ের জন্য নাম্বার ওয়ান ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান।

অসুবিধাঃ

আপনাকে নিজের ওয়েবসাইট নিজে পরিচালনা করতে হবে যার অর্থ আপনাকে একটি নতুন সিস্টেমের সাথে নিজেকে পরিচিত করতে হবে। এই সামান্য শিক্ষা সহজেই বেশিরভাগ ব্যবহারকারীরা অতিক্রম করে ফেলেন, তবে শুরুতে এটি কিছুটা কঠিন মনে হতে পারে।

খরচঃ

ওয়ার্ডপ্রেস একটি ফ্রি ওয়েবসাইট নির্মাতা, অর্থাৎ ওয়েবসাইট রান করাতে আপনার সাধারণত কোন টাকা লাগবেনা। তবে আপনার ওয়েবসাইটটি লাইভ করার জন্য আপনার একটি ডোমেন নেম এবং ওয়েব হোস্টিংয়ের প্রয়োজন হবে যা সাধারণত প্রতি বছরে যথাক্রমে ৳৯০০ (ডোমেইন) এবং ৳১০০০ (হোস্টিং)।

2. গেটর(Gator by HostGator)

গেটর একটি জনপ্রিয় অনলাইন ওয়েবসাইট নির্মাতা কোম্পানি যা বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ওয়েব হোস্টিং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান হোস্টগেটর দ্বারা নির্মিত । গেটর বিল্ডার হল একটি সার্বজনীন ওয়েবসাইট বিল্ডিং এবং হোস্টিং সমাধান যা ছোট ব্যবসায়ের জন্য একটি নিখুঁত সমাধান।

সুবিধাঃ

গেটর সম্পূর্ণরূপে হোস্ট করা প্ল্যাটফর্ম, সুতরাং আপনাকে সফ্টওয়্যার, আপডেট বা ব্যাকআপ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

আপনি একটি সহজ ওয়েবসাইট নির্মাতা কোম্পানি পাবেন যা আপনাকে ২০০+ পেশাদার ওয়েবসাইট ডিজাইন টেম্পলেট থেকে পছন্দের টেম্পলেট বেছে নিতে সাহায্য করে। প্রতিটি ডিজাইন সাধারণ কাস্টমাইজেশন এর মাধ্যমে আপনি নিজেই কনফিগার করতে পারেন।

গেটর আপনাকে একটি অন্তর্নির্মিত স্টক ফটো লাইব্রেরিতে অ্যাক্সেসও দেয়, যাতে আপনি নিজের ওয়েবসাইটে সুন্দর ফটোগুলি খুঁজে পেতে এবং যুক্ত করতে পারেন।

সমস্ত পেইড প্ল্যানে (Paid Plans) আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি বিনামূল্যে কাস্টম ডোমেন নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইকমার্স প্ল্যানে একটি অনলাইন স্টোর সেটআপ এবং আপনার পণ্যগুলি অনলাইনে বিক্রয় করার সিস্টেমও অনর্ভূক্ত করা আছে।

যেহেতু গেটর একটি পেইড (Paid) পণ্য,তারা আপনার ডেটা বিক্রি করে না বা আপনার ওয়েবসাইটে কোন বিজ্ঞাপনও দেখায় না।

অসুবিধা

তালিকার অন্যান্য কয়েকটির বিপরীতে, গেটরের কোন ফ্রি প্ল্যান নেই অর্থাৎ গেটরের বিনামূল্যে ব্যবহারের কোন সুযোগ দেয়না। এমনকি তারা বিনামূল্যে ট্রায়াল কিছুদিনের জন্য ট্রায়াল দেওয়ার সুবিধাও রাখেনি।

তালিকার অন্যান্য মালিকানাধীন ওয়েবসাইট নির্মাতাদের মতো, আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইনটি উল্লেখযোগ্যভাবে সংশোধন করতে বা আপনার ওয়েবসাইটে নতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত করার জন্য আপনি গেটরে কোন ওয়েবসাইট ডেভেলপারকে নিয়োগ দিতে পারবেন না ।

খরচ

গেটর এর পেইড প্ল্যানগুলি প্রতি মাসে 3.84 থেকে শুরু, প্রিমিয়ামের জন্য প্রতি মাসে5.99 এবং ইকমার্স প্ল্যানের জন্য  

*** QuickLaTeX cannot compile formula:
9.22 থেকে শুরু হয়। এটি অবশ্যই তালিকাটির মোটামুটি সস্তা ওয়েবসাইট নির্মাতা। 
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
গেটর একটি ছোট ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট কিংবা সীমিত আইটেম সহ একটি স্টোর বা কোন ফটো গ্যালারী তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সর্বাধিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট নির্মাতা ওয়ার্ডপ্রেসের সাথে এর তেমন কোন মিল নেই।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:heading {"level":4} -->
<h4 id="shopify">3. শপিফাই (Shopify)</h4>
<!-- /wp:heading -->

<!-- wp:paragraph -->
<a href="https://www.domain.com/website-builder" target="_blank" rel="noreferrer noopener">শপিফাই</a> হল একটি জনপ্রিয় ইকমার্স ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এটি বিশেষত অনলাইন স্টোর এবং ইকমার্স ওয়েবসাইটগুলির জন্য ডিজাইন করা । এটি ১ মিলিয়ন সক্রিয় ব্যবহারকারীদের সাথে অর্ধ মিলিয়নেরও বেশি ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা করে। শপিফাই এর প্ল্যাটফর্মে ৪০ বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য বিক্রি হয়েছে।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<strong>সুবিধা</strong>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<a rel="noreferrer noopener" href="https://www.shopify.com/" target="_blank">শপিফাই</a> হল সম্পূর্ণরূপে হোস্টিং করা একটি প্ল্যান, এর মানে আপনাকে সফ্টওয়্যার পরিচালনা, আপডেট ইনস্টল করা বা ব্যাকআপ রাখা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না । শপিফাই আপনার জন্য সমস্ত কিছু ঠিক করে রাখে।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
এটিতে শপিফাই পেমেন্টস নামে ইন্টিগ্রেটেড একটি পেমেন্ট সিস্টেম থাকে। তবে পেমেন্ট গ্রহণ করতে আপনি তৃতীয় পক্ষের পেমেন্ট গেটওয়েও যুক্ত করতে পারেন।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
একটি ইকমার্স ওয়েবসাইট নির্মাতা হিসাবে শপিফাই আপনাকে পুরো ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, সীমাহীন পণ্য, শক্তিশালী পরিসংখ্যান, সহজ বিপণন সমাধান সহ সমস্ত একটি সুন্দর প্লাটফর্ম প্রোভাইড করে। তারা এখানে থিম এবং ডিজাইন বেছে নিতে আপনাকে সাহায্য করবে এবং আপনার কখনও কোডিং করার প্রয়োজন হবে না।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
ড্র্যাগ এবং ড্রপ ইন্টারফেসের সাথে, শপিফাই একটি পূর্ণ-ইকোমার্স স্টোর তৈরি আপনার জন্য অত্যন্ত সহজ করে তোলে। তারা ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ এবং শপিফাই এর তালিকা, শিপিং, বিপণন এর পাশাপাশি স্টোর পসও অফার করে, যা আপনাকে আপনার লোকেশনে পণ্য বিক্রয় করার সুবিধা দেয়।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<strong>অসুবিধা</strong>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
আপনি যদি শুরু করতে চান, তবে আপনি এই তালিকার অন্য ওয়েবসাইট নির্মাতাদের চেয়ে শপিফাই এর দাম কিছুটা বেশি দেখতে পাবেন।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
আপনি যদি কখনও শপিফাই থেকে আপনার ওয়েবসাইট সরিয়ে নিতে চান তবে এটি করা আপনার পক্ষে বেশ কঠিন হবে।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<strong>খরচ</strong>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
শপিফাই এর 'বেসিক' প্ল্যানটিতে প্রতি মাসে আপনার

*** Error message:
Unicode character থ (U+09A5)
leading text: $9.22 থ
Unicode character ে (U+09C7)
leading text: $9.22 থে
Unicode character ক (U+0995)
leading text: $9.22 থেক
Unicode character ে (U+09C7)
leading text: $9.22 থেকে
Unicode character শ (U+09B6)
leading text: $9.22 থেকে শ
Unicode character ু (U+09C1)
leading text: $9.22 থেকে শু
Unicode character র (U+09B0)
leading text: $9.22 থেকে শুর
Unicode character ু (U+09C1)
leading text: $9.22 থেকে শুরু
Unicode character হ (U+09B9)
leading text: $9.22 থেকে শুরু হ
Unicode character য (U+09AF)
leading text: $9.22 থেকে শুরু হয
Unicode character ় (U+09BC)
leading text: $9.22 থেকে শুরু হয়

29 ডলার এর মত খরচ হবে।শপিফাই এর ‘শপিফাই’ প্ল্যানটিতে প্রতি মাসে আপনার 79 ডলার এর মত খরচ হবে।শপিফাই এর 'এডভান্স শপিফাই' প্ল্যানটিতে প্রতি মাসে আপনার299 ডলার এর মত খরচ হবে। এছাড়াও শপিফাই একটি লাইট প্ল্যান অফার করে,যা মূলত আপনাকে যে কোনও ওয়েবসাইটে একটি ‘Buy Button’ যুক্ত করতে দেয়। এই লাইট প্ল্যানটিতে প্রতি মাসে আপনার
*** QuickLaTeX cannot compile formula:
9 ডলার এর মত খরচ হবে।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
আপনি যদি ঝামেলা মুক্ত ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তবে <a rel="noreferrer noopener" href="https://www.wpbeginner.com/refer/shopify/" target="_blank"></a><a rel="noreferrer noopener" href="https://www.shopify.com/" target="_blank">শপিফাই</a> আপনার জন্য উপযুক্ত অপশন হতে পারে।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:heading {"level":4} -->
<h4 id="domaincom">4. ডোমেন ডটকম ওয়েবসাইট নির্মাতা (Domain.com Website Builder)</h4>
<!-- /wp:heading -->

<!-- wp:paragraph -->
<a href="https://www.domain.com/website-builder" target="_blank" rel="noreferrer noopener">Domain.com</a> এমন একটি ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যা আপনাকে একটি ছোট ব্যবসার ওয়েবসাইট, ব্লগ, এমনকি কয়েকটি ক্লিকে একটি ইকমার্স ওয়েবসাইট তৈরি করতে দেয়।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<strong>সুবিধা</strong>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
ডোমেন ডট কম আপনার ওয়েবসাইট তৈরির জন্য একটি সহজ ড্রাগ এবং ড্রপ ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। আপনি তাদের ডিজাইন করা শত শত টেম্পলেটগুলো থেকে দূর্দান্ত ডিজাইন বাছাই করে শুরু করতে পারেন এবং খুব সহজেই এটিকে কাস্টমাইজ করতে পারেন।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
সমস্ত ডোমেন ডটকম ওয়েবসাইট নির্মাতা টেম্পলেটগুলি মোবাইল, ট্যাবলেট এবং ডেস্কটপ কম্পিউটারগুলির জন্য যথেস্ট রেস্পনসিভ। এর অর্থ হল যে আপনার ওয়েবসাইটটি সমস্ত ডিভাইসে দুর্দান্ত লাগবে।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
এটি এমন সমস্ত শক্তিশালী আপনাকে অফার করে যা আপনি একটি সুপরিচিত ওয়েবসাইট নির্মাতার কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন যার মধ্যে রয়েছে: ওয়েবসাইট অ্যানালিটিক্স, ইকমার্স কার্যকারিতা, যে কোনও ওয়েবসাইটে ব্লগ যুক্ত করার ক্ষমতা এবং এস এস এল সার্টিফিকেট।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
তাদের ইকমার্স প্ল্যানের সাহায্যে আপনি ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট, কুপন এবং আরও অনেক শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য পাবেন।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
তারা প্রযুক্তিগত সহায়তার জন্য লাইভ চ্যাট এবং টেলিফোন গ্রাহক সমর্থনও সরবরাহ করেন।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<strong>অসুবিধা</strong>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
অন্যান্য জনপ্রিয় ওয়েবসাইট নির্মাতাদের মতো, ডোমেন ডটকম ওয়েবসাইট বিল্ডারে ফ্রি ওয়েবসাইট তৈরির কোন অপশন নেই। তারা ফ্রি ট্রায়ালের সুযোগ দেয় না। তবে আপনি যদি পণ্যটি ব্যবহারে অসন্তুষ্ট হন তবে তারা মানি ব্যাক গ্যারান্টি দেয়।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
তাদের এক্সটেনশন ইকোসিস্টেমটি ছোট এবং আপনি ওয়ার্ডপ্রেসের মতো উন্নত ফিচার যুক্ত করতে কোনও ডেভেলপার ভাড়া করতে পারবেন না কারণ এটি কোন ওপেন সোর্স প্লাটফর্ম নয়।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
যেহেতু এটি মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম, তাই ডোমেন ডটকম থেকে পরবর্তীতে আপনার ওয়েবসাইট স্থানান্তর করা কঠিন হবে।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<strong><strong>খরচ</strong></strong>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
ডোমেন ডটকম এ স্টার্টার প্ল্যানের জন্য প্রতিমাসে

*** Error message:
Unicode character ড (U+09A1)
leading text: $9 ড
Unicode character ল (U+09B2)
leading text: $9 ডল
Unicode character া (U+09BE)
leading text: $9 ডলা
Unicode character র (U+09B0)
leading text: $9 ডলার
Unicode character এ (U+098F)
leading text: $9 ডলার এ
Unicode character র (U+09B0)
leading text: $9 ডলার এর
Unicode character ম (U+09AE)
leading text: $9 ডলার এর ম
Unicode character ত (U+09A4)
leading text: $9 ডলার এর মত
Unicode character খ (U+0996)
leading text: $9 ডলার এর মত খ
Unicode character র (U+09B0)
leading text: $9 ডলার এর মত খর
Unicode character চ (U+099A)
leading text: $9 ডলার এর মত খরচ

1.99 ডলার খরচ হতে পারে, বিজনেস প্ল্যানের জন্য 6.99 ডলার এবং ইকমার্স প্ল্যানের জন্য প্রতি মাসে12.99 ডলার খরচ হতে পারে।

তাদের সকল প্ল্যানে ফ্রি এসএসএল সার্টিফিকেট, সীমাহীন স্টোরেজ, ব্লগ ফিচার এবং ফোন সমর্থন করে।

যদি আপনি কোন পেশাদার ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সন্ধান করেন তবে ডোমেন ডটকম ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আপনার জন্য একটি দুর্দান্ত অপশন। তবে আপনি যদি নিজের কনটেন্টে এডভান্স ফিচারস এবং আরও নিয়ন্ত্রণ চান তবে কোন কিছুই সেলফ-হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস এর উপরে যেতে পারবেনা।

5. WordPress.com

ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম একটি ব্লগ এবং ওয়েবসাইট হোস্টিং পরিষেবা। ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ সফটওয়্যারটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ম্যাট মুলেনওয়েগ এটি তৈরি করেছেন, তাই এর নাম ওয়ার্ডপ্রেস ডটকম।তবে ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম কিন্তু সেলফ-হোস্টেড ওয়ার্ডপ্রেস.অর্গ এর মতো নয়।

সুবিধা

WordPress.com একটি ওয়েবসাইট হোস্টিং পরিষেবা। ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম এবং ওয়ার্ডপ্রেস ডত অর্গ এর মূল পার্থক্য হল ওয়ার্ডপ্রেস ডট অর্গ পুরোটায় আপনি ইচ্ছামত চালাতে পারবেন ইচ্ছা হলে ভিতরের কোডিংও পরিবর্তন করে ফেলতে পারবেন। অপরদিকে ওয়ার্ডপ্রেস ডট কম এ আপনি কোনভাবেই সোর্স কোড পরিবর্তন করতে পারবেন না তবে এটি নিজেই সব ম্যানেজ করে তাই আপনাকে সফ্টওয়্যার এবং ব্যাকআপ নিয়ে কখনো চিন্তা করতে হবে না।

তাদের বিনামূল্যে এবং অর্থের বিনিময়ে কিছু প্ল্যানের বিভিন্ন সেট রয়েছে। সমস্ত প্ল্যানেই ব্যবহারকারীদের কয়েকশো ফ্রি এবং পেইড ওয়ার্ডপ্রেস থিম থেকে পছন্দ করে ব্যবহার করার সুবিধা দেয়। তারপরে আপনি বিল্ট-ইন কাস্টমাইজার থেকে আপনার সাইটের শিরোনাম যুক্ত করতে, উইজেটগুলি ব্যবহার করতে, নেভিগেশন মেনুগুলি যুক্ত করতে পারেন।

অসুবিধা

আপনি যদি তাদের ‘বিজনেস প্ল্যানে’ আপগ্রেড না করেন তবে আপনি কাস্টম প্লাগইন বা থিম ইনস্টল করতে পারবেন না।

প্রিমিয়াম এবং ছোট প্ল্যানগুলিতে ই-কমার্স ফিচার কিংবা থার্ড পার্টি বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক সমর্থন করেনা। তবে বিজনেস প্লায়নের সাহায্যে আপনি WooCommerce এবং থার্ড পার্টি বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কগুলি ব্যবহার করতে পারবেন।

খরচ

যদিও এর বেসিক প্ল্যান একদম ফ্রি, তবে এটি অত্যন্ত সীমাবদ্ধ। তাদের পার্সোনাল প্ল্যানের বিল প্রতি মাসে

*** QuickLaTeX cannot compile formula:
4 ডলার দিয়ে শুরু হয় এবং পেমেন্ট সিস্টেম বাৎসরিক। এই প্ল্যানে একটি কাস্টম ডোমেন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। 'প্রিমিয়াম' প্ল্যানের জন্য বাৎসরিক বিল পেমেন্ট করতে হয় প্রতিমাসে

*** Error message:
Unicode character ড (U+09A1)
leading text: $4 ড
Unicode character ল (U+09B2)
leading text: $4 ডল
Unicode character া (U+09BE)
leading text: $4 ডলা
Unicode character র (U+09B0)
leading text: $4 ডলার
Unicode character দ (U+09A6)
leading text: $4 ডলার দ
Unicode character ি (U+09BF)
leading text: $4 ডলার দি
Unicode character য (U+09AF)
leading text: $4 ডলার দিয
Unicode character ় (U+09BC)
leading text: $4 ডলার দিয়
Unicode character ে (U+09C7)
leading text: $4 ডলার দিয়ে
Unicode character শ (U+09B6)
leading text: $4 ডলার দিয়ে শ
Unicode character ু (U+09C1)
leading text: $4 ডলার দিয়ে শু
Unicode character র (U+09B0)

8.25 ডলার খরচ হয় এবং এটি আপনাকে আপনার সাইট এবং উন্নত ডিজাইন কাস্টমাইজেশন আপগ্রেড করার সুযোগ দেয়। ‘বিজনেস’ প্ল্যানের জন্য বাৎসরিক বিল পেমেন্ট করতে হয় প্রতিমাসে
*** QuickLaTeX cannot compile formula:
24.92 ডলার খরচ হয় এবং এটি আপনাকে ইকমার্স এবং কাস্টম প্লাগইন এড করার সুযোগ দেয়।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:heading {"level":4} -->
<h4 id="wix">6. উইক্স (Wix)</h4>
<!-- /wp:heading -->

<!-- wp:paragraph -->
উইকস আরেকটি জনপ্রিয় ক্লাউড ভিত্তিক ওয়েবসাইট নির্মাতা সফ্টওয়্যার। এটি ব্যবহার করা খুবই সহজ এবং এতে সহজেই শক্তিশালী ফিচারস অন্তর্ভূক্ত করা যায়।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<strong><strong>সুবিধা</strong></strong>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
উইকস সম্পূর্ণরূপে হোস্ট করা প্ল্যাটফর্ম, তাই আপনাকে হোস্টিংয়ের জন্য অর্থ দিতে হবে না। আপনি আপনার ওয়েবসাইটের ডিজাইনের জন্য বেছে নিতে পারেন কয়েকশ টেম্পলেট। প্রতিটি টেমপ্লেট তাদের নিজস্ব ড্র্যাগ এবং ড্রপ সাইট বিল্ডারের সাথে সম্পূর্ণ ব্যবহারযোগ্য।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
এটিতে কয়েক ডজন ফ্রি এবং পেইড অ্যাপ্লিকেশন আছে যা আপনি নিজের ওয়েবসাইটে ইনস্টল করতে পারেন। এই অ্যাপ্লিকেশনগুলি আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটে নতুন বৈশিষ্ট্য এবং কার্যকারিতা যুক্ত করতে দেয়। এর মধ্যে কয়েকটি উইক্স এর নিজস্ব প্রোপার্টি, এবং অন্যগুলি থার্ডপার্টি ডেভেলপারদের দ্বারা তৈরি করা হয়ে থাকে।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
উইক্স এর সীমিত ব্যান্ডউইথ এবং স্টোরেজ সহ একটি ফ্রি প্ল্যান রয়েছে। তবে, আপনি এই প্ল্যানটি তাদের ড্রাগ এবং ড্রাইভ ওয়েবসাইট নির্মাতাকে টেস্ট করার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। এটিতে কোন ডোমেন নাম অন্তর্ভুক্ত নেই , সুতরাং আপনি যদি নিজের ওয়েবসাইটটি কন্টিনিউ করার সিদ্ধান্ত নেন তবে আপনাকে তাদের প্রিমিয়াম প্ল্যানে আপগ্রেড করতে নিতে হবে।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<strong><strong>অসুবিধা</strong></strong>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
ফ্রি এবং কানেক্ট ডোমেন প্ল্যানগুলি আপনার ওয়েবসাইটে উইক্স ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনগুলি দেখায়। আপনি এই বিজ্ঞাপনগুলি সরাতে চাইলে আপনাকে তাদের কম্বো বা আনলিমিটেড প্ল্যানে আপগ্রেড করতে হবে।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
আপনি যদি কখনও উইক্স থেকে আপনার ওয়েবসাইট সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন , তবে এটি করা আপনার পক্ষে বেশ জটিল হবে।
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<strong><strong>খরচ</strong></strong>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
উইক্স একটি উইক্স ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনযুক্ত সাব ডোমেন সহ একটি সীমিত ফ্রি প্ল্যান অফার করে। আপনি প্রতি মাসে

*** Error message:
Unicode character ড (U+09A1)
leading text: $24.92 ড
Unicode character ল (U+09B2)
leading text: $24.92 ডল
Unicode character া (U+09BE)
leading text: $24.92 ডলা
Unicode character র (U+09B0)
leading text: $24.92 ডলার
Unicode character খ (U+0996)
leading text: $24.92 ডলার খ
Unicode character র (U+09B0)
leading text: $24.92 ডলার খর
Unicode character চ (U+099A)
leading text: $24.92 ডলার খরচ
Unicode character হ (U+09B9)
leading text: $24.92 ডলার খরচ হ
Unicode character য (U+09AF)
leading text: $24.92 ডলার খরচ হয
Unicode character ় (U+09BC)
leading text: $24.92 ডলার খরচ হয়
Unicode character এ (U+098F)
leading text: $24.92 ডলার খরচ হয় এ

9.16 ডলার ব্যয়ে একটি ডোমেন সংযোগ করতে পারবেন। তাদের কম্বো প্ল্যানটি মাসে 14.95 ডলার দিয়ে শুরু হয় এবং এই প্ল্যানে আপনাকে  বিনামূল্যে একটি ডোমেন দেওয়া হবে। ইকমার্স প্ল্যানের জন্য প্রতি মাসে26.25 ডলার খরচ হয়।

7.GoDaddy ওয়েবসাইট বিল্ডার

GoDaddy বিশ্বের বৃহত্তম ডোমেন নাম এবং হোস্টিং পরিষেবা সরবরাহকারীদের মধ্যে একটি। তারা হোস্টিং সহ একটি সাধারণ অনলাইন ওয়েবসাইট নির্মাতা হিসেবে পরিচিত।

সুবিধা

প্রফেশনাল একটি ওয়েবসাইট তৈরির জন্য GoDaddy ওয়েবসাইট বিল্ডার একটি সিম্পল এবং সহজ প্ল্যাটফর্ম। এখানে আপনি রেডি টু ইউজ বেশ কয়েকটি ব্লক পাবেন যা দিয়ে আপনি ড্র্যাগ এবং ড্রপ করে সহজেই বিভিন্ন লেআউটগুলি তৈরি করতে পারবেন।

GoDaddy ওয়েবসাইট বিল্ডার ছোট স্ক্রিনেও দুর্দান্ত কাজ করে। আপনি মোবাইল কিংবা ট্যবলেটের মাধ্যমেই আপনার ওয়েবসাইট নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

অসুবিধা

এই তালিকার বেশিরভাগ ওয়েবসাইট বিল্ডারদের মতো এটি সমৃদ্ধ এবং নমনীয় ফিচার সমৃদ্ধ নয়। এটি ডিজাইন এবং ফিচারস সবই লিমিটেড।

ওয়েবসাইটকে GoDaddy ওয়েবসাইট বিল্ডার থেকে ওয়ার্ডপ্রেসে স্থানান্তরিত করা বেশ কঠিন ।

খরচ

এদের ‘পার্সোনাল’ প্ল্যানের দাম মাসে 5.99 ডলার, 'বিজনেস' প্ল্যানের দাম মাসে9.99 ডলার এবং ‘বিজনেস প্লাস’ প্ল্যানের দাম $14.99ডলার। সমস্ত প্ল্যানেই বার্ষিক বিল করা হয়।

GoDaddy ওয়েবসাইট বিল্ডার কয়েকটি পেজের একটি বেসিক ওয়েবসাইটের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কনটেন্ট সমৃদ্ধ ওয়েবসাইট তৈরির ক্ষেত্রে এটি কোন ভাল সমাধান নয়।

আমাদের পছন্দের সেরা ওয়েবসাইট বিল্ডার

সমস্ত জনপ্রিয় অনলাইন ওয়েবসাইট বিল্ডারদের যত্নশকারে মূল্যায়ন করার পরে, আমাদের মনে হয় যে ওয়ার্ডপ্রেস সামগ্রিকভাবে অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে।

বিগেইনার কিংবা বিজনেস এর জন্য ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে সবচেয়ে নমনীয় এবং মানসম্মত সমাধান। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক ব্র্যান্ড তাদের ওয়েবসাইট তৈরিতে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করছে।

আরো জানতে দেখুনঃ কিভাবে একটি ওয়ার্ডপ্রেস সাইট তৈরি করবেন?

কিভাবে চাকরির জন্য ভাল একটি সিভি (CV) লেখা যায়

স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে চাকরি পাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত আমাদের সবারই CV লিখতে হয়। মূলত CV হলো Job Letter এর একটি অংশ। তাহলে Job Letter কি? চাকরিপ্রার্থী হিসেবে জীবন বৃত্তান্ত উল্লেখ করে যে আবেদন করা হয়, তাকে Job Letter বলে। একটি Job Letter এর দুটি অংশ থাকে। যেমন-

1.Cover Letter: Cover Letter হলো মূল Application। এই অংশে প্রার্থী নিয়োগ দাতাকে জানায় যে, সে তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আগ্রহী। সাক্ষাত (Interview) এর জন্য নিয়োগ দাতাকে এই অংশে অনুরোধ করা হয়। আপনার Cover Letter যত ভাল হবে, আপনাকে পরবর্তি ধাপে ডাকার সম্ভাবনা তত বেশি৷ এই অংশের সুন্দর উপস্থাপন নিয়োগ দাতাকে মুগ্ধ করে interview এর জন্য ডাক পেতে আপনাকে সাহায্য করবে।

2.CV/Resume: Job Letter এর CV/Resume হলো একজন আবেদনকারীর (Applicant) পরিপূর্ণ কিন্তু সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত। এই অংশে প্রার্থীর নাম, ঠিকানা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, প্রাসঙ্গিক দক্ষতা, কর্মকান্ড, কৃতিত্ব এবং ব্যক্তিগত তথ্য থাকে।

সিভি

পত্রিকায় বা অন্যকোন মাধ্যমে বিজ্ঞাপম দেখে সাধারণত চাকরিপ্রার্থী একটি দরখাস্ত লিখে। এই দরখাস্তটিকেই বলে ‘Cover Letter’। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দরখাস্তের সাথে CV সংযুক্ত করে জমা দিতে হয়। এই দরখাস্তটিকেই বলে ‘Cover Letter’। এটি যদি চাকরির জন্য বলা হয় তাহলে সেটিকে ‘Job Application’ বলা যায়। ‘Cover Letter’ সব সময় ‘Formal Language’ এ লিখতে হয়৷ দরখাস্ত কাকে সম্বোধন করে লিখতে হবে তা বিজ্ঞাপন থেকেই আপনাকে নিতে হবে। অনেক সময় বিজ্ঞাপনটি কে দিয়েছেন তা উল্লেখ থাকে না। তবে সেক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনদাতাকে (The Advertiser) সম্বোধন করে দরখাস্ত লিখতে পারেন। দরখাস্তটির শেষে স্বাক্ষরের নিচে ‘Attachment’ শিরোনাম কী কী কাগজপত্র বা ডকুমেন্টস সংযুক্ত করা হলো তার তালিকা আকারে দেওয়া যেতে পারে।

Cover Letter লেখার নমুনা

মনে করি, ‘The Daily Star’ পত্রিকার ২রা জানুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত নিচের বিজ্ঞাপনটি দেওয়া হলো। সে অনুসারে আমাকে একটি ‘Cover Letter’ লিখতে হবে।

Some Ticketing Officers will be recruited in Pacific Travel Agency. Smart, young and energetic male and female graduates having a good speaking skill in English and good speed in computer operation may apply by 15 January, 2020.
Managing Director, Pracific Travel Agency
2/A,Motijiheel C/A, Dhaka

তাহলে ‘Cover Letter’ লিখে ফেলি চলুনঃ

The Managing Director
Pracific Travel Agency
2/A, Motijheel C/A, Dhaka

Subject: Application for the post of Ticketing Officer.
Dear sir,
From your advertisemnet published in ‘The Daily Star’ on 2nd January, 2020, I came to know that you are going to recruit some Ticketing Officers for your Travel Agency. I am inrerested in such a job. My CV and other necessary papers are enclosed herewith the application.
I, therefore, request the favour of your kindness to consider my candidature in the selection process.

Your faithfully

––––––––
Signature.

সিভি

‘Cover Letter’ লিখার পর্ব শেষ করে আপানকে লিখতে হবে একটি সুন্দর পরিপূর্ণ ‘CV’। আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি, CV হলো একজন applicant এর পরিপূর্ণ কিন্তু সংক্ষিপ্ত জীবনচিত্র৷ ‘CV’ এর পূর্ণরূপ হলো ‘Curriculum Vitae’। ইংরেজি ভাষায় ‘Curriculum’ (কারিকুলাম) এবং ‘Vitae’ (ভিটা) শব্দ দুটো এসেছে ল্যাটিন ভাষা থেকে। ‘Curriculum’ শব্দের অর্থ হলো ‘Course/s’ এবং ‘Vitae’ শব্দের অর্থ হলো ‘Life’। সুতরাং ‘Curriculum Vitae’ বলতে বোঝায় ‘Courses of life’, যাকে বাংলায় জীবনবৃত্তান্ত বলা যায়। জীবনবৃত্তান্তের আরও দুটি ইংরেজি পরিভাষা হলো ‘Biodata’ (বায়োডাটা) এবং ‘Resume’ (রিজিউম)।

আধুনিক যুগে কম্পিউটারের ব্যবহার সুবিধা থাকায় চাকরি ক্ষেত্রে প্রার্থীকে তার ‘CV’ কম্পিউটারে কম্পোজ করে হবে। A4 কাগজে 11 বা 12 ফন্টে কম্পোজ করা ভাল। প্রত্যেকটি শিরোনামে অল ক্যাপ (All cap) অর্থাৎ বড় হাতের অক্ষর ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রত্যেকটি পয়েন্ট বোল্ড (Bold) করা হলে সহজেই নজরে পড়বে। মোটকথা, ‘CV’ টি প্রিন্টআউট নেওয়ার পর যাতে দেখতে সুন্দর বা আকর্ষনীয় হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

CV-তে যে সকল পয়েন্ট অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:

1.Contact Address: এ অংশে প্রার্থী তার যোগাযোগের ঠিকানা লিখবেন। আধুনিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মোবাইল বা ই-মেইল নাম্বার থাকা আবশ্যক।

2.Objective: এই অংশে প্রার্থী যে চাকরির জন্য বা যে পদের জন্য ‘CV’প্রেরণ করেছে সে চাকরি বা সেই পদের সাথে সংগতি রেখে তার ভবিষ্যৎ লক্ষ বা ক্যারিয়ার সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ায় পরিকল্পনা সংক্ষেপে ব্যক্ত করতে পারবে।

3.Educational Qualification: এ অংশে প্রার্থী তার বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ অর্জনের যাবতীয় তথ্যাদি প্রদান করবে। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় নাম এবং কত সালে সনদ আর্জিত হয়েছে-সেগুলো কলাম করে সুবিন্যস্ত ভাবে লিপিবদ্ধ করতে হবে যাতে সেগুলো এক নজরে পাঠ করা যায়।

4.Scholarship: যদি কোন প্রার্থী শিক্ষাজীবনে কোন স্কলারশিপ বা বৃত্তি পেয়ে থাকে তাহলে এই শিরোনামে তা লিপিবদ্ধ করতে হবে। কারো যদি এ ধরনের কোনো অর্জন না থাকে তাহলে এই শিরোনামের কোন প্রয়োজন নেই।

5.Working Experience: এই শিরোনামে প্রার্থী তার কর্ম ক্ষেত্রে কোন অভিজ্ঞতা থাকলে তা লিপিবদ্ধ করবে। আধুনিক যুগে চাকরির ক্ষেত্রে প্রায় সর্বক্ষেত্রেই অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। প্রার্থীকে তার অভিজ্ঞতার তথ্যাদি বিস্তারিতভাবে প্রদান করতে হবে। যদি কারো একেবারেই কোনো কর্ম অভিজ্ঞতা না থাকে তাহলে এই শিরোনাম অন্তর্ভুক্ত করার কোন প্রয়োজন নেই।

6.Computer Skill: আধুনিক যুগে চাকরির ক্ষেত্রে কম্পিউটার চালানোর দক্ষতাকে অনেক গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। কাজেই প্রার্থীকে তার কম্পিউটারে কি ধরনের দক্ষতা আছে তা উল্লেখ করতে হবে।

7.Training Experience: প্রার্থী কোথাও কোনো প্রশিক্ষণ লাভ করলে তা উল্লেখ করতে হবে। প্রশিক্ষণের মেয়াদ, কোথায় গ্রহণ করা হয়েছে, প্রশিক্ষণ কিসের উপর করা হয়েছে এ বিষয়ে গুলি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে।

8.Language Skill: এ শিরোনামে প্রার্থীর ভাষা দক্ষতা লিপিবদ্ধ করতে হবে। দক্ষতার চারটি স্তর আছে। কথন, লিখন, পঠন, শ্রবণ। কোন ভাষাতে এই চারটি দক্ষতা থাকলে তাকে “‘High Proficiency”‘( হাই প্রফিশিয়েন্সি) বলা হয়। যদি কারো ভাষাতে খুবই স্বল্প জ্ঞান থাকে তাহলে সেটিকে “Rudimentary”‘ (রুডিমেন্টারি) বা প্রারম্ভিক জ্ঞান বলা হয়। আর কারো যদি মাঝামাঝি পর্যায়ের জ্ঞান থাকে তাহলে সেটিকে “‘Intermediate”‘ (ইন্টারমিডিয়েট) বা মধ্য পর্যায়ের জ্ঞান বলে। এ বিষয়গুলো বিস্তারিত ভাবে লিখতে হবে।

9.Publication: কোন প্রার্থীর যদি কোন প্রকাশনা থাকে অর্থাৎ সে যদি কোন বই লিখে থাকে এবং পত্রিকায় যদি তার কোন লেখা প্রকাশিত হয়ে থাকে তাহলে সেগুলো বিস্তারিত ভাবে উল্লেখ করতে হবে। কারো যদি এ ধরনের প্রকাশনা না থাকে তাহলে এই শিরোনামটি দেওয়ার প্রয়োজন নাই।

10.Professional Membership: প্রার্থী যদি কোন পেশাগত প্রতিষ্ঠান বা ক্লাবের মেম্বার হয়ে থাকে তাহলে তা এই শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করতে হবে। মনে রাখতে হবে যে, অনেক নামকরা প্রতিষ্ঠান বা ক্লাব রয়েছে যেখানে সদস্য হতে হলে বেশ কিছু যোগ্যতা থাকা লাগে। কাজেই ভালো কোন প্রতিষ্ঠান সদস্য হওয়া বিশেষ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

11.Interest / hobby: কোন প্রার্থী অবসর সময় কিভাবে কাটাতে পছন্দ করে তা ঐ ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বা জীবনধারাকে প্রকাশ করে। অবসর সময়ে কেউ গান শুনতে, কেউ ছবি আঁকতে,কেউ আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে যাইতে, কেউ বাগান পরিচর্যা করতে পছন্দ করে। এই শিরোনামে এই বিষয়গুলি উল্লেখ থাকে।

12.Personal Details: এই শিরোনামটি ‘CV’ -এর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য যেমনঃ নাম, পিতার নাম, মাতার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, জন্ম তারিখ, লিঙ্গ, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, জাতীয়তা ইত্যাদি উল্লেখ থাকে।

13.Reference: এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম। এই শিরোনামের অধীনে প্রার্থীর এক বা একাধিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তির নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর ইত্যাদি উল্লেখ করতে হবে যাতে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ প্রার্থী সম্পর্কে জানতে উক্ত ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করতে পারে। কোন কোন চাকরির ক্ষেত্রে রেফারেন্স এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এটি অবশ্যই সব ধরনের ‘CV’- তে থাকবে।

সবশেষে প্রার্থীর (Signature) স্বাক্ষর থাকতে হবে। স্বাক্ষরের নিচে বন্ধনীতে পূর্ণ নাম লেখা থাকবে।Computer এ “CV” কম্পোজের সময় বন্ধনী সহ পূর্ণ নামটি কম্পোজ করতে হবে। এবং প্রিন্টকপিতে বন্ধনীর ঠিক উপরেই বলপেন বা অন্য কোন কলম দিয়ে কালো কালিতে স্বাক্ষর করতে হবে। স্বাক্ষরের পাশে তারিখ থাকতে পারে।

CV লেখার নমুনাঃ

Some teachers in English are needed for Ideal College, Central Road, Dhaka. Educational Qualification minimum second class (CGPA-2.5) MA in English from any reputed university. Send your CV to the following address.
Principal
Ideal College
Central Road, Dhaka.

এখন উপরের এই শর্তগুলো মেনে আমাদের একটি ‘CV’ রেডি করতে হবে৷

Curriculum Vitae

Rahul Chandra Das
Plot 5, Block 2-C, Road 2
Banani, Dhaka-1216.
Cell: 01728******
E-mail: [email protected]

Career Objective:
To develop career in the field of teaching in a college.

Academic Qualifications:

সিভি

Working Experience:
Working as an assistant teacher, Machhimpur P.R. High School, Titas, Comilla from January 2016 till date.

Computer Skills:
Ms Word, Ms Excel, Powerpoint, Ms Access and Adobe Photoshop.

Language Skills:

1. Bangla (High Proficiency)
2. English (High Proficiency)
3. Hindi (Intermediate)

Hobby/Interest:

Reading books, listening to music and travelling, Gardening.

Personal Details:

Father’s Name : xxx
Mother’s Name : xxx
Present Address : xxx
Permanent Address : xxx
Date of Birth : xxx
Sex : xxx
Nationality : Bangladeshi
Hometown : xxx
Marital Status : xxx
Religion : xxx
Blood Group : xxx

References:

1. Mr. Rafiqul Islam
Execuitive
Xinixian Garment Ltd.
16/A Savar, Dhaka
Cell Phone: 017866*****

2. Mr. Sham Kanti Roy

Executive Assistant (Rtd.)

Traffic Delartment

Bangladesh Inland Water Transport
Cell Phone: 01725******

–––––––––
(Rahul Chandra Das)
Signature

উপরের সম্পূর্ণ পদ্ধতি মেনে আপনি যেকোন সরকারি-বেসরকারি চাকরি আবেদনের জন্য application তৈরি করতে পারবে। মনে রাখবেন, আপনার ‘Cover Letter’ এর বর্ণনা যত সুন্দর হবে আপনার ডাক পড়ার সম্ভাবনা তত বেশি। আর ‘CV’ অংশে অবশ্যই আপনার যাবতীয় সবকিছু সংযুক্ত করবেন। এই চাকরির সাথে আমার এই স্কিল যায় না বলে তা সংযুক্ত করবেন না, এমন চিন্তা করার কোন দরকার নাই। আপনার সম্পর্কিত সকল তথ্য দিয়েই আপনি সর্বদা ‘CV’ তৈরি করবেন।

আপনার জানা উচিৎ এমন কিছু আর্টিকেলঃ


আজ এ পর্যন্তই। ভাল লাগলে অবশ্যই ফেসবুকে শেয়ার করতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

সেরা ১০ ধরণের ওয়েবসাইট যা ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে করা সম্ভব

0

মানুষ যখন ভাবে কেন ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করা উচিত বা ওয়ার্ডপ্রেস কি কি করতে পারে? উত্তর বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আপনার যা যা প্রয়োজন তাই তাই করতে পারে। এই নিবন্ধে, আমরা আপনাকে ১০ রকমের ওয়েবসাইট দেখাব যেগুলি ওয়ার্ডপ্রেসের সাহায্যে কোনও প্রোগ্রামিং দক্ষতা ছাড়াই তৈরি করা যায়।

ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে যাত্রা শুরু করা

একটি ওয়ার্ডপ্রেস সাইট তৈরির জন্য প্রথমে আপনার প্রয়োজন হবে একটি ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং এবং একটি ডোমেন নেম (Domain)। সেরা ১০ ধরণের ওয়েবসাইট যা ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে করা সম্ভব, সে সম্পর্কে আমাদের একটি আর্টিকেল রয়েছে  ।

১. ব্লগ বা ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট (Blog or Personal Website)

শুরুতে ওয়ার্ডপ্রেস একটি সাধারণ ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম হিসাবে শুরু হয়েছিল এবং দ্রুত একটি শক্তিশালী সিএমএসে (CMS) রূপান্তরিত হয়েছিল। তবে গত ১২ বছরে, এই ব্লগিং এবং ব্যক্তিগত ওয়েবসাইটের উপাদানগুলি ওয়ার্ডপ্রেস এখনো ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে।বরং তারা আরও সুন্দর এবং পরিপূর্ণ হয়েছে। আপনি যদি একটি ব্লগ বা ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান তবে আপনি আপনার ওয়েবসাইটটি দ্রুত লোড হওয়ার জন্য এবং সুন্দর করার জন্য প্রচুর টুলস এবং প্লাগিন পাবেন।

২. ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট (Business Website)

অস্থির দেখতে একটি বিজনেজ ওয়েবসাইট বানানোর সহজ প্লাটফর্ম হচ্ছে ওয়ার্ডপ্রেস। এটি এত শক্তিশালী যে অনেক নামীদামী কোম্পানিগুলি তাদের ওয়েবসাইটগুলিতে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে । এটি আপনাকে দ্রুত কোনও ওয়েবসাইট চালু করে আপনার ব্যবসা প্রসারে সহায়তা করবে।

৩. ই কমার্স (eCommerce)

ওয়ার্ডপ্রেস এর সাহায্যে আপনি খুব দ্রুত এবং সহজে একটি ই কমার্স ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলতে পারেন।  WooCommerceEasy Digital Downloads এবং WPEcommerce এর মতো দুর্দান্ত কিছু প্লাগইন রয়েছে যা আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটকে সম্পূর্ণ কার্যকরী ই কমার্স প্ল্যাটফর্মে পরিণত করে ফেলবে। আপনি ঘরে বসে থেকে ব্যবহারকারীদের পেমেন্ট গ্রহণের পাশাপাশি শিপিং, ট্যাক্স ইত্যাদি পরিচালনা করতে পারেন ।

৪. প্রশ্নোত্তর ওয়েবসাইট (Q&A Website)

Yahoo Answers, Stack Exchange, or Quora এর মত ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান? তাহলে ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে আপনার জন্য সবচেয়ে সহজ সমাধান। ওয়ার্ডপ্রেসের সাহায্যে আপনি সহজেই একটি প্রশ্নোত্তর সাইট তৈরি করতে পারেন । এটিকে অন্যান্য টুলস এর সাথে সমন্বয় করে আপনি নিজের একটি উন্নত অনলাইন কমিউনিটি তৈরি করতে ফেলতে পারেন।

৫. পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট (Portfolio Websites)

আপনার কাজগুলোকে সহজে মানুষের কাছে পৌছানোর জন্য একটি ভাল প্ল্যাটফর্ম দরকার? আপনি আকর্ষণীয় ফটো গ্যালারী এবং সুন্দর স্লাইডার সহ আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে সহজেই একটি পোর্টফোলিও যুক্ত করতে পারেন । এতে করে মানুষজন সহজেই আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করার মাধ্যমে আপনার কাজগুলোকে দেখতে পারবে।

৬. অনলাইন কমিউনিটি (Online Communities)

বিবিপ্রেস ফোরাম ব্যবহার করে ওয়ার্ডপ্রেস একটি অনলাইন ফোরাম তৈরি করা যেতে পারে । এমনকি আপনি BuddyPress এর মতো প্লাগইন ব্যবহার করে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিণত করতে পারেন।

৭. বহুভাষাভাষি ওয়েবসাইট (Multilingual Websites)

আপনি অনেক ভাষায় যেমন ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করতে পারেন তেমনি আপনি একটি বহুভাষিক ওয়েবসাইটও তৈরি করতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে বহুভাষিক ওয়েবসাইট তৈরি করা কতটা সহজ তা অন্য একদিন দেখাব।

৮. ফটোগ্রাফি ওয়েবসাইট (Photography Websites)

আপনি কি পেশাদার বা অপেশাদার ফটোগ্রাফার? আপনার পরিবারের ছুটির ছবিগুলি সবার সাথে শেয়ার করতে চান? ওয়ার্ডপ্রেস এবং Envira Gallery দিয়ে আপনি চমকপ্রদভাবে সুন্দর একটি ফটোগ্রাফি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন। আপনি গ্যালারী, অ্যালবাম, টাইটেল, ক্যাপশন, লাইটবক্স পপআপ, স্লাইডশো হুইসেল ইত্যাদি যুক্ত করতে পারেন।

৯. স্কুল বা কলেজ ওয়েবসাইট (School or College Websites)

ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার স্কুল এবং কলেজ ওয়েবসাইট তৈরি হয়। এটি নিরাপদ, সুরক্ষিত এবং পরিচালনা করা সহজ। সো আপনিও চাইলে খুব সহজেই ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট খুব সহজেই তৈরি করে ফেলতে পারেন।

১০. ব্যক্তিগত ব্লগ (Private Blogs)

একটি ব্যক্তিগত ব্লগ আপনার নিজস্ব ব্যক্তিগত ডায়েরি বা জার্নাল হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়া আপনার পারিবারিক ইভেন্টগুলি, বিবাহের ফটো, শিশুর ছবি ইত্যাদি সবার সাথে শেয়ার করার জন্যও আপনি একটি ব্যক্তিগত ব্লগ ব্যবহার করতে পারেন।

আশা করি, এই নিবন্ধটির মাধ্যমে আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে কী ধরণের ওয়েবসাইট তৈরি করা যেতে পারে সে সম্পর্কে কিছু ধারণা দিতে পেরেছি। ভাল লাগলে পোস্টটি আপনার ফেসবুকে শেয়ার করে রাখুন।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি করবেন কিভাবে? (সহজ উপায়)

0

আপনি কি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চাচ্ছেন? বিশেষ করে আপনি যদি প্রযুক্তিবিদ না হন সেক্ষেত্রে ওয়েবসাইট তৈরি আপনার জন্য একটি ভীতিকর ধারণা হতে পারে। তারপরও চিন্তা করবেন না, আপনার কোন কোডিং ধারণা না থাকলেও আপনি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে অনায়াসে একটি ওয়েবসাইট তৈরী করে ফেলতে পারেন। কারণ ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি অনেক সিম্পল এবং সহজ কাজ।

আমরা আপনাকে এখানে ধাপে ধাপে ওয়েবসাইট তৈরির প্রক্রিয়া দেখাব ।

ওভারভিউঃ

  • কীভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করবেন
  • আপনার সাইটের ডিজাইন পরিবর্তন করতে একটি টেম্পলেট ইনস্টল করা্র উপায়
  • ওয়ার্ডপ্রেসে পেজ তৈরি করা
  • অ্যাডোনস এবং এক্সটেনশনগুলির সাহায্যে ওয়ার্ডপ্রেস কাস্টমাইজ করা
  • এটিকে ভালভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আরও ফিচার যুক্ত করে ওয়েবসাইটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া

ওয়েবসাইট তৈরি শুরু করার আগে চলুন আমরা প্রয়োজনীয় কিছু প্রশ্নের উত্তর জেনে নেই।

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট এর দাম কত?

আপনি কী ধরণের ওয়েবসাইট বানাতে চাইছেন তার উপর এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে।একটি সাধারণ ব্যবসায়িক ওয়েবসাইট প্রতি বছর হিসাবে সর্বনিম্ন ৭০০০ থেকে ৮০০০ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। তবে আপনি চাইলে এর থেকেও কম দামে একটি ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট নিজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন।

ওয়েবসাইট তৈরির সেরা প্ল্যাটফর্ম কোনটি?

এমন অনেক ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আছে যারা আপনাকে একটি ওয়েবসাইট সেটআপ করতে সহায়তা করবে। তবে আমরা আপনার ওয়েবসাইট প্ল্যাটফর্ম হিসাবে সেলফ-হোস্টেড (Self-hosted) ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছি।ওয়ার্ডপ্রেস বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় একটি ওয়েবসাইট প্ল্যাটফর্ম। এটি ইন্টারনেটের সমস্ত ওয়েবসাইটের প্রায় ৩০% ওয়ার্ডপ্রেস দ্বারা তৈরি।

ধাপ ১ঃ সেটআপ

ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট সেটআপ করার জন্য আপনাকে প্রথমে একটি ভাল ডোমেইন নেম নির্বাচন করতে হবে। এরপর একটি হোস্টিং প্রোভাইডার কোম্পানির কাছ থেকে হোস্টিং নির্বাচন করতে হবে। বাংলাদেশে বিভিন্ন হোস্টিং কোম্পানি আছে যাদের কাছে থেকে আপনি সহজেই হোস্টিং এবং ডোমেইন নিতে পারেন।

ধাপ ২. ইনস্টল ওয়ার্ডপ্রেস

হোস্টিং নেওয়ার পর হোস্টিং কোম্পানি আপনাকে একটি ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড দিবে এবং সেগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার ড্যাশবোর্ডে (সিপ্যানেল) লগইন করতে পারবেন। সেখানে আপনি প্রচুর আইকন দেখতে পাবেন যার 95% কখনো ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না।

সিপ্যানেলের সার্চ অপশনে wordpress লিখে সার্চ করুন এবং তারপরে ওয়ার্ডপ্রেস আইকনে ক্লিক করুন। এরপর পরবর্তি নির্দেশনা গুলো মেনে ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টল করুন।

অভিনন্দন!আপনার প্রথম ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট তৈরি হয়ে গেছে।আপনি এখন ওয়ার্ডপ্রেস লগইন পৃষ্ঠায় যেতে পারেন। আপনার লগইন ইউআরএল দেখতে পাবেন: http://yourdomain.com/wp-admin/

wploginpage

আশা করি উপরের অংশটুকু বুঝতে পেরেছেন।

এবার আসুন পরবর্তী ধাপে চলে যাই এবং আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি থিম নির্বাচন করা যাক।

ধাপ ৩. থিম নির্বাচন

আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইট টি আসলে একটি ওয়ার্ডপ্রেস থিম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। ডিফল্টভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডপ্রেস সাইট একটি বেসিক থিম নিয়ে আসে। আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটটিতে যান, তবে প্রায় এটি এর মতো দেখতে পাবেন:

defaultwptheme

এটি বেশিরভাগ ব্যবহারকারীর জন্য খুব বেশি উপযুক্ত নয়। তবে চিন্তা করবেন না, এমন হাজার হাজার ফ্রি এবং পেইড ওয়ার্ডপ্রেস থিম রয়েছে যা আপনি আপনার সাইটে ইনস্টল করতে পারেন।

আপনি ওয়ার্ডপ্রেস অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার থিম পরিবর্তন করতে পারেন। Appearance » Themes পেইজে যান। সেখানে আপনি প্রায় ৪৫০০ ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস থিমগুলি থেকে অনুসন্ধান করতে সক্ষম হবেন। আপনি এগুলিকে জনপ্রিয়, সর্বশেষ, বৈশিষ্ট্যযুক্ত, পাশাপাশি অন্যান্য বৈশিষ্ট্য ফিল্টারগুলি (যেমন শিল্প, বিন্যাস ইত্যাদি) অনুসারে বাছাই করতে পারেন। এবং তারপর ‘Add New’ বাটনে ক্লিক করুন।

change wp theme

পরবর্তী স্ক্রিনে, আপনি প্রায় ৪৫০০ এর বেশি ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস থিম দেখতে পাবেন।

search theme

এখানে আমরা ডেমো থিম হিসেবে Bento ব্যবহার করব । এটি সকল ধরণের ওয়েবসাইটের জন্য নমনীয় এবং বহুল জনপ্রিয় একটি ফ্রি ওয়ার্ডপ্রেস থিম।

আপনি যে ফ্রি থিমটি ইনস্টল করতে চান তার নামটি যদি আপনি জানেন তবে আপনি এখানে সার্চ করে সেটি ইনস্টল করতে পারেন।

ওয়ার্ডপ্রেস আপনাকে অনুসন্ধানের ফলাফলগুলিতে থিমটি প্রদর্শন করবে। এবার আপনার মাউসটিকে থিমের উপরে নিয়ে ইনস্টল বাটনে ক্লিক করুন।

install theme

একবার আপনি আপনার থিমটি ইনস্টল করার পরে, আপনি Appearance » Customize তে এটিকে ইচ্ছামত কাস্টমাইজ করতে পারেন।

customize theme

আপনার এখনই সমস্ত থিম সেটিংস ঠিক করার দরকার নেই। আপনার ওয়েবসাইটটিতে কিছু বিষয়বস্তু (Content ) থাকলে আপনি এটি আরও ভালভাবে কাস্টমাইজ করতে সক্ষম হবেন।

আসুন দেখুন কীভাবে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে বিভিন্ন বিষয়বস্তু যুক্ত করা যায়।

ধাপ ৪. আপনার সাইটে কনটেন্ট ( Content ) যুক্ত করুন

ওয়ার্ডপ্রেস পোস্ট এবং পেইজেজ নামক দুটি ডিফল্ট কন্টেন্ট এড করার সিস্টেম থাকে । পোস্টগুলি একটি ব্লগের অংশ ।অন্যদিকে, পেইজগুলি সাধারণত about page, contact page, privacy policy, ইত্যাদি হয়ে থাকে।

ডিফল্টভাবে, ওয়ার্ডপ্রেস আপনার ওয়েবসাইটের প্রথম পৃষ্ঠায় আপনার ব্লগ পোস্টগুলি দেখায়। আপনি চাইলে এটি পরিবর্তন করতে পারেন এবং যে কোন পেইজকে ফ্রন্ট পেইজ হিসাবে দেখাতে পারেন (আমরা আপনাকে পরবর্তী নির্দেশিকাতে কীভাবে এটি করতে হয় তা দেখাব)।

আপনি আপনার ব্লগ বা নিউজের জন্য একটি পৃথক পেইজ তৈরি করতে পারেন । আসলে, আপনি কোনও ব্লগ অপশন না রেখেও একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।

এখন আপনি আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে কয়েকটি পৃষ্ঠা যুক্ত করে শুরু ক্রুন। এই মুহুর্তে আপনার এই পেইজগুলোতে পর্যাপ্ত কনটেন্ট না থাকলেও ঘাবড়ানর কিছু নেই। আপনি সর্বদা এগুলি এডিট এবং আপডেট করতে পারবেন।

এবার এডমিন এরিয়া থেকে Pages » Add New  ক্লিক করুন। এবার আপনি নিজের পেইজের মত একতি স্ক্রিন দেখতে পাবেনঃ

একটি নতুন পৃষ্ঠা যুক্ত করা হচ্ছে

প্রথমে আপনাকে আপনার পেইজের একটি টাইটেল দিতে হবে, চলুন টাইটেল হিসেবে এটিকে আমরা “Home” নাম দেই।

এর পরে আপনি আপনার ইচ্ছামত কন্টেন্ট যুক্ত করতে পারেন। আপনি text, links, images, embed videos, audio ইত্যাদি যোগ করতে পারেন

আপনার পেইজে কন্টেন্ট যুক্ত করার পরে, এটি আপনার ওয়েবসাইটে লাইভ দেখতে Publish বাটনে ক্লিক করুন।

এভাবে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে প্রয়োজনমত পেইজ যুক্ত করে নিতে পারেন।উদাহরণস্বরূপ, about পেইজ, contact us পেইজ , এবং একটি blog পেইজ যেখানে আপনার ব্লগ পোস্টগুলো থাকবে।

এবার আসুন কয়েকটি ব্লগ পোস্ট যুক্ত করা যাক।

এবার ওয়ার্ডপ্রেস এডমিন এরিয়া থেকে Posts » Add New  ক্লিক করুন।

ওয়ার্ডপ্রেসে একটি নতুন পোস্ট যুক্ত করা হচ্ছে

উপরে পেইজ যুক্ত করার সময় আপনি যেমনটা দেখেছিলেন প্রায় সেরকম কিছুই এখানে দেখতে পাবেন।

এখন আপনি আপনার পোস্টে একটি টাইটেল (Title) যুক্ত করতে পারেন এবং তারপরে ভিজ্যুয়াল পোস্ট এডিটরের মাধ্যমে কন্টেন্ট যুক্ত করুন। ডানপাশের দিকে আপনি post formats, categories and tags এর মতো কিছু অতিরিক্ত অপশন দেখতে পাবেন।

আপনি আপনার পোস্টটি Draft হিসেবে সেভ করতে Save Draft বাটনে ক্লিক করতে পারেন বা Publish বাটনে ক্লিক করে এটি আপনার ওয়েবসাইটে দৃশ্যমান করতে পারেন।

ধাপ ৫. আপনার ওয়েবসাইট কাস্টমাইজ করুন

এখন আপনি নিজের ওয়েবসাইটে কিছু কন্টেন্ট তৈরি করেছেন, এবার আপনি সেগুলো কাস্টমাইজ করার মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটে সুন্দর করে উপস্থাপন করতে পারবেন।

আসুন আগে ফন্ট পেইজটা সেটআপ করে ফেলি।

ফন্ট পেইজ সেটআপ

এবার ওয়ার্ডপ্রেস এডমিন এরিয়া থেকে Settings » Reading এ ক্লিক করুন । ‘Front page displays’ অপশনের আন্ডারে থাকা অপশন গুলো থেকে A static page সিলেক্ট করুন এবং তারপরে Front page এর জায়গায় Home পেইজ এবং posts page এর জায়গায় Blog পেইজ দিয়ে দিন।

Static font page option

এবার একটু নিচে গিয়ে ‘Save Changes’ বাটনে ক্লিক করে যা যা পরিবর্তন করলেন সেগুলো সেভ করে নিন।

ওয়ার্ডপ্রেস এখন আপনার ফ্রন্ট পেইজে Home পেইজ এবং Blog পেইজে আপনার পোস্টগুলি দেখাবে।

সাইটের টাইটেল এবং ট্যাগলাইন পরিবর্তন করুন

ইনস্টলেশন চলাকালীন আপনি আপনার সাইটের শিরোনাম ঠিক করে নিতে পারেন। ওয়ার্ডপ্রেস স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার সাইটে ‘Just another WordPress site’ নামে একটি ট্যাগ লাইন যুক্ত করে রাখে।

আপনি যে কোনও সময়ে Settings » General পেইজে গিয়ে আপনার সাইটের শিরোনাম এবং ট্যাগলাইন উভয়ই পরিবর্তন করতে পারবেন।

সাইটের টাইটেল এবং ট্যাগলাইন পরিবর্তন

আপনার সাইটের টাইটেল হচ্ছে আপনার ওয়েবসাইটের নাম আর ট্যাগ লাইনটি সাধারণত একটি ছোট লাইন যা আপনার ওয়েবসাইটকে বর্ণনা করে। আপনি চাইলে ট্যাগ লাইন অপশন ফাঁকাও রাখতে পারেন।

এবার একটু নিচে গিয়ে ‘Save Changes’ বাটনে ক্লিক করে যা যা পরিবর্তন করলেন সেগুলো সেভ করে নিন।

Comments Settings সেট আপ করুন

ওয়ার্ডপ্রেসে রয়েছে একটি বিল্ট-ইন কমেন্ট সিস্টেমচ যা আপনার সাইট ব্যবহারকারীদের আপনার পোস্টগুলিতে মন্তব্য করার সুযোগ করে দেয়। এটি আপনার ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর সাথে কানেক্টেড থাকার জন্য একটি দুর্দান্ত ব্যবস্থা তবে এটি স্প্যামারদের দ্বারাও আক্রান্ত হতে পারে।

এটি মোকাবেলা করার জন্য, আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটে কমেন্ট মডারেশন এনাবল (enable) করতে হবে।

এটি করতে ওয়ার্ডপ্রেস এডমিন এরিয়া থেকে Settings » Discussions এ যান। রবার নিচের দিকে স্ক্রল করে  ‘Before a comment appears’ সেকশনে গিয়ে ‘Comment must be manually approved’ অপশনে টিক চিহ্ন দিয়ে দিন।

মন্তব্য সংশোধন সক্ষম করুন

এবার একটু নিচে গিয়ে ‘Save Changes’ বাটনে ক্লিক করে যা যা পরিবর্তন করলেন সেগুলো সেভ করে নিন।

নেভিগেশন মেনু ( Navigation Menu ) তৈরি করুন

নেভিগেশন মেনুর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা আপনার ওয়েবসাইটের বিভিন্ন Page বা সেকশন ব্রাউজ ঙ্করতে পারবে।চলুন নেভিগেশন মেনু সেট করা শিখে ফেলি।

ওয়েবসাইটে নেভিগেশন মেনু যোগ

প্রথমে আপনাকে Appearance » Menus পেইজে যেতে হবে। আপনার নেভিগেশন মেনুর একটি নাম দিন এবং Create Menu বাটনে ক্লিক করুন। সম্পূর্ণ ব্ল্যাঙ্ক একটি নেভিগেশন মেনু তৈরি হয়ে গেল।

একটি নতুন মেনু তৈরি করা হচ্ছে

এরপরে, আপনি আপনার মেনুতে যে পেইজগুলি প্রদর্শন করতে চান তা নির্বাচন করতে হবে এবং তারপরে ‘Add to Menu’ বাটনটিতে ক্লিক করুন।

ওয়ার্ডপ্রেস মেনুতে পেজ যুক্ত করুন

আপনার নির্বাচিত পেইজগুলি আপনার নেভিগেশন মেনু এর খালি অংশে যুক্ত হবে। আপনি মেনুতে পেইজগুলির পজিশন মাউসের লেফট বাটনে চাপ দিয়ে ধরে উপরে নিচে করতে পারবেন।

মেনু অবস্থান নির্বাচন করুন

এবার আরেকটু নিচের Menu Settings এর Display Location এ গিয়ে ‘Primary Menu’ তে টিক চিহ্ন দিয়ে দিন। এবার এই মেনুটি আপনার ওয়েবসাইটের একদম শীর্ষে দেখাবে।

সবশেষে, আপনার নেভিগেশন মেনুটি সেভ করতে ‘Save Menu’ বাটনে ক্লিক করুন।মেনুটি কার্যকর অবস্থায় দেখতে আপনি এখন আপনার ওয়েবসাইটটিতে যেতে পারেন।ৎ

ধাপ ৬. প্রয়োজনীয় প্লাগইন ইনস্টল করা

ওয়ার্ডপ্রেস প্লাগইনগুলিকে এক কথায় ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের জন্য অ্যাপ (Apps) বলা যেতে পারে যা আপনাকে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস সাইটে দুর্দান্ত সব ফিচার যুক্ত করার সুযোগ দেয়। মোবাইলের ShareIt,Blutooth এগুলাকে ওয়ার্ডপ্রেসের ভাষায় মোবাইলের প্লাগিন বলা যেতে পারে।

ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য বর্তমানে ৪৯,০০০ এরও বেশি ফ্রি প্লাগিন রয়েছে। এছাড়াও হাজার হাজার পেইড (Paid) প্লাগইন রয়েছে যেগুলো টাকার বিনিময়ে কিনতে হয়।

এখানে আবশ্যক কিছু ফ্রি প্লাগইন এর তালিকা রয়েছে যা আপনার সাইটে ইনস্টল করা উচিত।

স্পেশাল ফিচারস

  • Contact Form 7 – ওয়েবসাইটে বিভিন্ন কন্টান্ট ফর্ম তৈরি করার জন্য। যেমন, Contact Us ফরম।
  • MonsterInsights – ব্যবহারকারীরা আপনার ওয়েবসাইটটি কিভাবে খুজে পায় এবং কেমন ব্যবহার করে তা জানতে গুগল অ্যানালিটিক্সের সাথে আপনার ওয়েবসাইটটি সংযুক্ত করুন যাতে করে পরে আবার তাদের সহজেই আপনার ওয়েবসাইটে ফিরিয়ে আনতে পারেন।

ওয়েবসাইট অপ্টিমাইজেশন

  • Yoast SEO – গুগল থেকে আরও বেশি ট্র্যাফিক পেতে আপনার ওয়ার্ডপ্রেস এসইও উন্নত করুন।
  • WP Super Cache– ক্যাশ করা পেজগুলি পরিবেশন করে আপনার ওয়েবসাইটের গতি বাড়ান।

নিরাপত্তা (Website Security)

  • Updraft Plus – আপনার ওয়েবসাইটের স্বয়ংক্রিয় সময় নির্ধারিত ব্যাকআপগুলি তৈরি করুন
  • Sucuri – ওয়েবসাইট সুরক্ষা নিরীক্ষণ এবং ম্যালওয়্যার স্ক্যানার

 সেরা ১০ ধরণের ওয়েবসাইট যা ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে করা সম্ভব তালিকাটি দেখুন।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)

নীচে একটি ওয়েবসাইট তৈরি সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আছে।

ওয়ার্ডপ্রেস কি কোনও ওয়েবসাইট তৈরির একমাত্র উপায়?

না, ওয়েবসাইট তৈরির জন্য আরও অনেক ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আছে । তবে আমি মনে করি যে ওয়ার্ডপ্রেস একটি ওয়েবসাইট তৈরির সেরা এবং সহজ প্ল্যাটফর্ম।

আমি কীভাবে আমার ওয়েবসাইট থেকে টাকা উপার্জন করব?

এটি হচ্ছে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন করা প্রশ্ন। আপনার ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে অর্থ উপার্জনের অনেকগুলি উপায় রয়েছে।আমাদের কাছে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে অনলাইনে অর্থোপার্জনের ১০ টি কার্যকরী উপায়ের একটি তালিকা রয়েছে যা কিছুদিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

আমি কীভাবে এমন ওয়েবসাইট শুরু করব যেখানে আমি পণ্য বিক্রি করতে পারি?

আপনি সহজেই আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে একটি অনলাইন স্টোর যুক্ত করতে পারেন। আমরা ওয়ার্ডপ্রেসের জন্য সেরা ইকমার্স প্লাগইনগুলির একটি তালিকা তৈরি করেছি । কীভাবে একটি অনলাইন স্টোর শুরু করতে হয় সে সম্পর্কে অন্য একদিন সময় করে জানাব।

ওয়েবসাইট তৈরি এবং কাস্টমাইজ করতে আমার কি html/css জানা দরকার?

না আপনার ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে html/css জানা দরকার নেই। ওয়ার্ডপ্রেসে এমন কিছু প্লাগিন আছে যার মাধ্যমে আপনি ওয়েবসাইট সহজেই কাস্টমাইজ করতে পারবেন।

আমি কি eBay এর মতো কোন ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারি?

হ্যাঁ, আপনি সহজেই বিভিন্ন প্লাগিন ব্যবহার করে ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে eBay এর মতো একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে ফেলতে পারেন।

আমি কি Facebook এর মতো ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারি?

হ্যাঁ, আপনি ওয়ার্ডপ্রেসের মাধ্যমে খুব সহজেই আপনার ওয়েবসাইটকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বানিয়ে ফেলতে পারেন।