বাক্য কি বা কাকে বলে? গঠন ও অর্থ অনুসারে বাক্যের প্রকারভেদ

যে পদ বা পদসমষ্টি দ্বারা বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে। যেমন – পাখিরা আকাশে ওড়ে। ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ” কোনো ভাষায় যে উক্তির স্বার্থকতা আছে এবং গঠনের দিক থেকে যা স্বয়ংসম্পূর্ণ, সেরূপ একক উক্তিকে ব্যাকরণে বাক্য বলে।

মুনীর চৌধুরী ও মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরীর মতে, ” যে সুবিন্যস্ত পদসমষ্টি দ্বারা কোন বিষয়ে বক্তার মনোভাব সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়, তাকে বাক্য বলে।

বাক্যের প্রকারভেদ বা শ্রেণীবিভাগ

বাক্যের নানারকম প্রকারভেদ বা শ্রেণীবিভাগ হতে পারে। তবে দুটো দিক থেকে এর প্রকারভেদ বা শ্রেণীবিভাগ করা হয়। যথাঃ

  • গঠন অনুসারে
  • অর্থ অনুসারে

গঠন অনুসারে বাক্যের প্রকারভেদ বা শ্রেণীবিভাগ

গঠন অনুসারে বাক্য ৩ প্রকার। যথাঃ-

  • সরল বাক্য
  • জটিল বা মিশ্র বাক্য
  • যৌগিক বাক্য

সরল বাক্য: যে বাক্যে একটিমাত্র কর্তা বা উদ্দেশ্য এবং একটিমাত্র ক্রিয়া বা বিধেয় থাকে, তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন – পুকুরে পদ্মফুল জন্মে। ইফাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। এখানে পদ্মফুল ও ইফাদ হলো উদ্দেশ্য আর জন্মে ও যায় হচ্ছে বিধেয়।

জটিল বা মিশ্র বাক্য: যে বাক্যে একটি প্রধান খন্ডবাক্যের সাথে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয়, তাকে জটিল বা মিশ্র বাক্য বলে। যেমন – তুমি যদি না আস, আমি যাব না। যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে। যিনি পরের উপকার করেন, তাকে সবাই ভালোবাসে। এখানে,

আশ্রিত বাক্যপ্রধান খন্ড বাক্য
তুমি যদি না আসআমি যাব না
যে পরিশ্রম করেসেই সুখ লাভ করে
যিনি পরের উপকার করেন তাকে সবাই ভালোবাসে

যৌগিক বাক্য: পরস্পর নিরপেক্ষ দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বা মিশ্র বাক্য মিলিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য গঠন করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যেমন – ইফাদ অনেক মেধাবী ছাত্র কিন্তু নিয়মিত ক্লাস করে না। তার বয়স হয়েছে কিন্তু বুদ্ধি বাড়ে নি।

অর্থ অনুসারে বাক্যের প্রকারভেদ বা শ্রেণীবিভাগ

অর্থ অনুসারে বাক্যকে ৭ ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ-

  • বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য
  • প্রশ্নবোধক বা প্রশ্নাত্মক বাক্য
  • অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য
  • ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য
  • কার্যকারণাত্মক বাক্য
  • সংশয়সূচক বা সন্দেহদ্যােতক বাক্য
  • আবেগসূচক বাক্য

বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্যঃ যে বাক্য দ্বারা কোন কিছু বর্ণনা বা বিবৃতি করা হয় তাকে, বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য বলে। যেমন – গরু মাঠে ঘাস খায়। স্মৃতিসৌধ সাভারে অবস্থিত।

বর্ণনাত্মক বা নির্দেশাত্মক বাক্য আবার দুপ্রকার। যথাঃ

  • অস্থিবাচক বা হ্যাঁ বোধক বাক্য
  • নেতিবাচক বা না বোধক বাক্য

অস্থিবাচক বা হ্যাঁ বোধক বাক্য: যে বাক্য দ্বারা কোন ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের অস্থিত্ব বা হ্যাঁ সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে অস্থিবাচক বা হ্যাঁ বোধক বাক্য বলে। যেমন – ইফাদ চুপ করে রইল।

আরও পড়ুন – শব্দ কাকে বলে? উৎপত্তি বা উৎস, গঠন ও অর্থানুসারে শব্দের শ্রেণীবিভাগ

নেতিবাচক বা না বোধক বাক্য: যে বাক্য দ্বারা কোন ঘটনা, ভাব বা বক্তব্যের না সূচক অর্থ প্রকাশ পায়, তাকে নেতিবাচক বা না বোধক বাক্য বলে। যেমন – ইফাদ কোন কথা বলল না।

প্রশ্নবোধক বা প্রশ্নাত্মক বাক্য: যে বাক্য দ্বারা কোন কিছু জিজ্ঞেস করা বা জানতে চাওয়া হয়, তাকে প্রশ্নবোধক বা প্রশ্নাত্মক বাক্য বলে। যেমন – তুমি কোন ক্লাসে পড়?, যাবে নাকি? ইত্যাদি ।

অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য: যে বাক্য দ্বারা আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, আবেদন, অনুরোধ ইত্যাদি বোঝায়, তাকে অনুজ্ঞা বা আদেশসূচক বাক্য বলে। সদা সত্য কথা বলবে। দয়া করে কথা বন্ধ রাখ।

ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য: যে বাক্য দ্বারা মনের ইচ্ছা, আকাঙ্ক্ষা, প্রার্থনা, আশীর্বাদ ইত্যাদি প্রকাশ পায়, তাকে ইচ্ছা বা প্রার্থনাসূচক বাক্য বলে। যেমন – তোমার মঙ্গল হোক। জীবনে সফল হও।

কার্যকারণাত্মক বাক্য: যে বাক্য দ্বারা কোন কারণ বা শর্ত বোঝায়, তাকে কার্যকারণাত্মক বাক্য বলে। যেমন – দুঃখ বিনা জগতে সুখ লাভ করা যায় না।

সংশয়সূচক বা সন্দেহদ্যােতক বাক্য: যে বাক্য দ্বারা কোন সন্দেহ, সংশয় কিংবা কোন সম্ভাবনা প্রকাশ পায় তাকে সংশয়সূচক বা সন্দেহদ্যােতক বাক্য বলে। যেমন – হয়তো সুদিন আসবে।

আবেগসূচক বাক্য: যে বাক্য দ্বারা হর্ষ, বিষাদ, আনন্দ, বিস্ময়, বিহ্বল বা মনের আকস্মিক আবেগ বাা উচ্ছ্বাস প্রকাশ পায়, তাকে আবেগসূচক বাক্য বলে।

তাহলে আজ এখানেই থাকলো। আর্টিকেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। ধন্যবাদ।

About the Author

Israt Jahan

No Comments

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *