Homeপ্রযুক্তিঅনলাইনে আয়চাকরীর পাশাপাশি ঘরে বসে আয় করার ১০ টি আকর্ষণীয় অনলাইন কাজ!

চাকরীর পাশাপাশি ঘরে বসে আয় করার ১০ টি আকর্ষণীয় অনলাইন কাজ!

চাকরী করার পাশাপাশি আপনার যদি ঘরে বসে অন্য কোন কিছু করে ইনকাম করার ইচ্ছে এবং সময় থাকে, তাহলে শুরু করতে পারেন যেকোন একটি অনলাইন প্লাটফর্মে কাজ। অনলাইনে কাজ করার প্রধান সুবিধা হচ্ছে এখানে আপনি আপনার ইচ্ছে মতো কাজ করতে পারবেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট টাইমে আপনাকে হাজিরা দিতে হবে না। আপনার যখন ইচ্ছে হবে তখন কাজ করবেন। তাছাড়া অনলাইনের কাজগুলো সম্পূর্ণ ঘরে বসে করা যায়। ফলে আপনি শুয়ে-বসে যেভাবে ইচ্ছে কাজটা করতে পারছেন। আবার অনলাইনে কাজের ইনকামের পরিমাণটাও কিন্তু যথেষ্ট ভাল। আপনি যদি এখানে লেগে থাকতে পারেন তাহলে দিন দিন আপনার এই ইনকাম পরিমাণ বেড়েই চলবে।

তাই আপনার মেধাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কাজে নেমে যেতে পারেন। প্রয়োজনে পার্টনারশীপের মাধ্যমেও কাজটি করতে পারেন। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং লোকবল নিয়োগ করে নিশ্চিন্তে ব্যবসাটি পরিচালনা করতে পারেন। তবে আপনি যদি ছোট পরিসরে কাজ করতে চান, তাহলে একা-একাও অনলাইনে কাজ করে যেতে পারেন। তো, চলুন দেখা নেওয়া যাক বাসায় বসেও অনলাইনে কাজ করে ইনকাম করা যায় এমন সেরা ১০ টি কাজ সম্পর্কে!

১. গ্রাফিক্স ডিজাইন

আপনার যদি ডিজাইনিং ভালো লাগে তাহলে নিঃসন্দেহে শুরু করতে পারেন গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ। গ্রাফিক্স ডিজাইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী ফটো এডিট, লোগো তৈরি, টি-শার্ট ডিজাইন, পোস্টার-ব্যানার তৈরি, ভিজিটিং কার্ড তৈরি সহ নানা কাজ করে ইনকাম করতে পারেন। একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে হলে আপনার অবশ্যই এডোবি ফটোসপ, এডোবি ইলাসটেটর এর মতো সফটওয়্যারগুলোর উপর ধারণা থাকতে হবে।

আরো জানুন-

গ্রাফিক্স ডিজাইন কি? এর চাহিদা ও চাকরির সুযোগ

২. ওয়েব ডিজাইন

আজ-কাল ওয়েব ডিজাইনের কাজ করে অনেকেই ভাল পরিামণ ইনকাম করছে৷ আবার অনেকে তো ওয়েব ডিজাইনের কাজটাকে প্রফেসনালই করে নিয়েছে। ওয়েব ডিজাইনের পাশাপাশি ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজটা শিখে ফেললে ইনকাম রেট বেড়ে যাবে দ্বিগুণ। তাই অনলাইনে কাজ করে ইনকাম করার ক্ষেত্রে ওয়েব ডিজাইন ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট একটি মান-সম্মত পেশা।

ওয়েব ডিজাইনের কাজ করতে হলে সাধাসরণত যেসকল জিনিসের উপর ভাল দক্ষতা প্রয়োজন তা হলো-

  • এইচটিএমএল (HTML)

  • ওয়ার্ডপ্রেস (WordPress)

  • সিএসএস (CSS)

তাছাড়া আপনি যেহেতু ডিজাইন নিয়ে কাজ করবেন তাই ডিজাইন সম্পর্কে আপনার একটা ভাল দক্ষতা তো লাগবেই। উপরোক্ত জিনিসগুলো ছাড়াও এডোবি ফটোসপ, এডোবি ইলাসটেটর সম্পর্কে যদি আপনার ধারণা তাকে তাহলে আপনি ডিজাইনের কাজগুলো আরো সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারবেন।

আরো জানুন-

সহজে যেকোন ওয়েবসাইট তৈরি করুন।

৩. সোসিয়াল মিডিয়া মার্কেটিং

বাংলাদেশে জনপ্রিয় সোসিয়াল মিডিয়াগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রাম এবং টুইটার। দেশ-বিদেশের কোটি কোটি মানুষ এখন সোসিয়াল মিডিয়ার সাথে কানেক্টেড। তাই যেকোন ধরনের মার্কেটিং বা ব্যবসার প্রচার-প্রচারণার জন্য সোসিয়াল মিডিয়া সর্বোৎকৃষ্ট। আপনি ডিজিটাল মার্কেটিং বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর অনেক বায়ার নিতে পারেন সোসিয়াল মিডিয়া থেকে। তাছাড়া আপনার যদি যেকোন ধরনের ভিডিও বানিয়ে ইনকামের ইচ্ছে থাকে তাহলে আপনি সোসিয়াল মিডিয়া থেকে অসংখ্য ভিউয়ার নিতে পারেন।

অবশ্যই জানুন-

সোসিয়াল মিডিয়া থেকে ইনকাম করুন লক্ষ টাকা।

ফেসবুক থেকে আনলিমিটেড ইনকাম করুন!

টুইটার থেকে ইনকাম করার A টু Z.

৪. ফ্রিল্যান্সিং রাইটিং

আপনার যদি লেখা-লিখি ভাল লাগে তাহলে আপনি ফ্রিল্যান্সিং রাইটিং এর কাজটি করতে পারেন। ফ্রিল্যান্সিং রাইটিং এর জন্য আপনার কোন কাজে বিশেষ কোন দক্ষতার প্রয়োজন নেই। তার জন্য চাইলে আপনি নিজে কোন একটি ব্লগিং ওয়েবসাইট চালু করতে পারেন অথবা ওয়েবসাইট চালু করতে না চাইলে ব্ল্যান্সার, আপওয়ার্ক, ফিভার এসকল সাইটে আপনি ফ্রিল্যান্সিং রাইটিং এর অনেক কাজ পাবেন। গ্রাহকদের চাহিদা মতো কাজ করে দিয়ে এসকল সাইট থেকে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

৫. অ্যামাজনের পণ্য বিক্রি

বিশ্ব বিখ্যাত অনলাইন শপিং সাইট অ্যামাজনের নাম আমরা মোটামোটি সবাই জানি। অ্যামাজনের একটি দারুন পরিষেবা রয়েছে। অ্যামাজনে যে কেউ চাইলে তার নিজের পণ্য বিক্রি করতে পারে। আপনার যদি বিক্রয়যোগ্য কোন পণ্য থাকে বা আপনার আশে-পাশে এমন কোন পণ্য থাকে তাহলে আপনি এসকল পণ্য অ্যামাজন সাইটে বিক্রি করতে পারেন। আবার আপনি চাইলে অ্যামাজন থেকে কোন পণ্য অল্প দামে বেশি-বেশি কিনে সোসিয়াল মিডিয়া ব্যবহার করে বা অন্য যেকোন উপায়ে বেশি দামে বিক্রি করে লাভ করতে পারেন।

৬. অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মানে হচ্ছে অন্যের পণ্য নিজে বিক্রি করে কমিশন নেওয়া। বর্তমানে এমন অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে তাদের পণ্য যে কাউকে বিক্রি করে দেওয়ার সুযোগ দেয়। ফলে প্রত্যেক পণ্যের জন্য তারা নির্দিষ্ট পরিমাণ কমিশন দিয়ে থাকেন। আপনি চাইলে সোসিয়াল মিডিয়া ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারেন। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর জন্য ফেসবুক, টুইটার, ইনস্ট্রাগ্রাম হলো বেস্ট মাধ্যম।

আরো জানুন- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করার উপায়!

অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে সফল হওয়ার উপায়!

৭. সোশাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট

মোটামোটি আমরা সবাই সোসিয়াল মিডিয়া ব্যবহার করি। এসকল সাইটে আমাদের অহেতুক অনেক সময় নষ্ট হয়। তাই এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে আপনি ইনকাম করতে পারেন অনেক টাকা। প্রথমেই আপনি সোসিয়াল মিডিয়াগুলোতে আপনার ভাল একটি প্রোফাইল তৈরি করুন। তারপর বিভিন্ন কোম্পানির, নতুন ব্যবসার বা পাইকারী বিক্রেতাদের বিভিন্ন প্রডাক্টের বিজ্ঞাপণ দিয়ে ইনকাম করতে পারেন। তাছাড়া আপনি যদি সোসিয়াল মিডিয়ায় ভাল মানের ভিডিও বানিয়ে পোস্ট করেন, তাহলেও ভিডিওর কোন অংশে বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপণ দেখিয়ে ইনকাম করতে পারেন। তবে তার জন্য আপনার অবশ্যই অধিক ফলোয়ার বিশিষ্ট কোন সোসিয়াল একাউন্ট লাগবে।

আরো জানুন-

সোসিয়াল মিডিয়া থেকে ইনকাম করার উপায়!

৮. ফাইভারে কাজ

ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ফাইভার একটি পরিচিত নাম। মূলত ফাইভার সাইটের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সাররা বায়ারদের অসংখ্য কাজ করে দেয়। আপনি যদি লোগো ডিজাইন, এ্যানিমেশন তৈরি, পোস্টার-ব্যানার তৈরি, ভিজিটিং কার্ড তৈরি সহ যাবতীয় কাজগুলোর কোনটি ভালভাবে করতে পারেন তাহলে আপনি ফাইভার সাইট থেকে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। ফাইভার সাইটে গিয়ে তাতে একটি একাউন্ট খুলে আপনি যেকাজ গুলো পারেন তাদের একেকটি ডেমো তৈরি করে এড করে দিবেন। গ্রাহকদের আপনার ডেমোটি পছন্দ হলে তারা আপনার কাজটি টাকার বিনিময়ে কিনে নিবেন।

ফাইভার সাইটে ভিজিট করুন।

৯. ডাটা এনালাইসিস

অনলাইনে কাজ করার ক্ষেত্রে ডাটা এনালাইসিস একটি আকর্ষণীয় এবং সহজ কাজ। যেকেউ চাইলেই একটু বুদ্ধি-খাটিয়ে ডাটা এনালাইসিসের কাজটি করতে পারেন৷ যত দিন যাচ্ছে ডাটা এনালাইসিসের কাজ তত বাড়ছে। বর্তমানে বিভিন্ন সাইটে ডাটা এনালাইসিসের প্রচুর কাজ পাওয়া যায়। চাকরীর পাশাপাশি অনলাইনে ইনকাম করার জন্য এটি একটি বেস্ট চয়েস।

আরো জানুন-

ডাটা এন্ট্রি করে আয় করবেন কিভাবে?

১০. কাস্টমার সার্ভিস

ঘরে বসে কাজ করার জন্য কাস্টমার সার্ভিসের কাজটিও দারুন। আপনি যদি সুন্দরভাবে কথা বলে কাস্টমার ম্যানেজ করতে পারেন তাহলে এটি আপনার জন্যই। বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের জন্য অসংখ্য কাস্টমার সার্ভিসারের প্রয়োজন পড়ে। আপনি কোন একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হয়ে বাসায় বসেই কাস্টমার সার্ভিসের কাজটি পরিচালনা করে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারেন। এইক্ষেত্রে আপনার প্রধান কাজ হবে গ্রাহক পরিসেবায় আসন্ন ফোন কল ও লাইভ চ্যাট গুলো ম্যানেজ করা। চাকুরীজীবিদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় কাজ।


ব্লগটি ভাল লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন।

ধন্যবাদ।

 

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Recent posts

Recent comments